দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাবনার চাটমোহরে কলেজ শিক্ষকের কাছে ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বিএনপির একটি নামধারী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোও বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের পাশাপাশি হত্যা হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষকের। প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের দবির উদ্দিনের ছেলে ও প্রফেসর বয়েন উদ্দিন ডিগ্রি (অনার্স) কলেজের সহকারী অধ্যাপক। চাঁদাবাজ চক্রের মূলহোতা মিনারুল ইসলাম (৪৭) একই গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে। ব্যাংকে চাকরি করলেও সরকার পতনের পর তিনি এলাকায় নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে যুক্ত হয়েছেন। হুমকি ধামকি ও মামলার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত এলাকার বিভিন্ন জনের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। এ কাজে নিজ ভাই মনিরুল, মাসুম, আনার মেম্বার, গোলাপ হোসেন ও তানজিলসহ ২৫/৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী দলও গঠন করেছেন তিনি। এ বাহিনী সন্তোষপুর গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় বাছাইকৃত লোকদের কাছে চাঁদা দাবি করছেন, না দিলে মধ্যরাতে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই এলাকার আবু জাফর মাস্টারের বাড়িতে হামলা চালায় এই সন্ত্রাসী দল। এরপর নিজেদের অবৈধ অস্ত্র আবু জাফর মাস্টারের হাতে দিয়ে ছবি তুলে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেন। চাঁদার জন্য বিভিন্ন সময় গ্রামের দুলাল, রুবেল ও খালেকসহ আরও কয়েকজনের বাড়িতে পরিকল্পিত হামলা চালায়। একইভাবে চাঁদা আদায়ের জন্য জাল লিগ্যাল নোটিশ তৈরি করে শহিদুলের কাছে ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে চক্রটি। সেটি দিতে অপারগতা জানালে মধ্যরাতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং শহিদুলকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। সর্বশেষ গত ৭, ১০ ও ১৯ নভেম্বর মধ্যরাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঐ সন্ত্রাসী দল আবার তাদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ ঘটনায় চাটমোহর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন কলেজ শিক্ষক শহিদুল।
ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম বলেন, মিনারুলের সাথে আমার কখনোই কোনো লেনদেন হয়নি, অথচ ভুয়া ও জাল কাগজ বানিয়ে আমার থেকে টাকা দাবি করছে।
তিনি বলেন, আমি মিনারুলকে বলেছি, সে যদি সত্যিই টাকা পেয়ে থাকে তাহলে প্রমাণসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু সেটা সে করছে না। ক্রমাগত আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তার একটি জালিয়াতির মামলায় স্বাক্ষী হবার কারণেই আমারা ওপর চড়াও হয়েছে মিনারুল।
সরেজমিনে, ভুক্তভোগীদের কাগজ পত্র যাচাই করে দেখা যায়, অভিযুক্ত মিনারুল চাটমোহর উপজেলার বোঁথর গ্রামের আব্দুর রউফের থেকে ১২ লাখ ধার নেন। কিন্তু সে টাকা না দিয়ে নানা তালবাহানা শুরু করে এবং তার দেওয়া ব্যাংক চেক (চেক নং: ৩৮৪০৩১৮) ডিজঅনার করলে ২০১৭ সালের অক্টোবরে আব্দুর রউফ বাদী হয়ে পাবনা জজ আদালতে মিনারুলের বিরুদ্ধে এ সংশ্লিষ্ট একটি মামলা দায়ের করেন। যে মামলায় প্রধান স্বাক্ষী ছিলেন কলেজ শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। আব্দুর রউফের আইনজীবী আশরাফুজ্জামান হালিম ২০১৭ সালের অক্টোবর ও ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে মিনারুলকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। ২০১৭ সালের এ নোটিশটিই কম্পিউটারে স্ক্যান করে বাদী বিবাদীর নাম পরিবর্তন করে একই চেক নং ও একই আইনজীবীর প্যাডে জাল নোটিশ পাঠিয়ে শহিদুলের নিকট ১২ লাখ টাকা দাবি করেছেন। সত্যতা যাচাইয়ে আইনজীবী আশরাফুজ্জামান হালিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মিনারুলের পক্ষে আমি কখনোই কোনো লিগ্যাল নোটিশ পাঠাইনি। সে সুস্পষ্ট জালিয়াতি করেছে। আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, তারা আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মকবুলের বাহিনী বলে পরিচিত ছিল। সরকার পতনের পর তারা বিএনপি হয়ে গেছে। তারা এলাকায় এখন ত্রাসের রাজত্ব ও চাঁদাবাজি করছে।
এ ব্যাপারে মুলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ. কুদ্দুস রেজা জানান, ১৭ বছর আমি ইউনিয়ন বিএনপির দায়িত্বে আছি। মিনারুল বিএনপির কেউ না। তারা এলাকায় চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুর করছে বলে শুনেছি। প্রশাসনের এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে, নিজেকে বিএনপির নেতা নয়, সমর্থক দাবি করেন মিনারুল। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে জোরপূর্বক শহিদুল আমার থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা আদায় করেছিলেন। আমি পাওনা টাকা চেয়েছি, কাউকে হুমকি বা বাড়িঘরে হামলা করিনি। চাঁদা দাবির অভিযোগও সত্য নয়।
এ ব্যাপারে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতির চেষ্টা করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগপত্রটি আমি এখনো হাতে পাইনি। তবে খোঁজ নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরএ