দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নড়াইলের নড়াগাতীতে ধান খেত থেকে হামিদা খানম (৬) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে পাকুড়িয়া গ্রামের সাহানুর শেখের মেয়ে।
বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে পাকুড়িয়া গ্রামের ধান খেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এসময় শিশুটির হাত রশি দিয়ে বাঁধা ছিল।
জানা গেছে , সকালের দিকে বাড়ির পাশে হত্যার হুমকি দেওয়া একটি চিঠি পেয়েছিল নিহতের পরিবারের লোকজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে হামিদার মা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে ছিলেন। এসময় মায়ের কাছ থেকে একটি আপেল হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বন্ধুদের সঙ্গে খেলার উদ্দেশ্যে বের হন হামিদা। পরে বিকেল ৪টার দিকে তাকে খোঁজ করে বাড়ির লোকজন। কিন্তু আশেপাশে কোথাও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।
তখন সকালের চিরকুটের বিষয়টি মনে পড়ায় পরিবারের লোকজন সন্দেহ বাড়ে। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি উত্তর পাশে একটি ধান খেতের মধ্যে হামিদার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। এসময় রশি দিয়ে তাঁর হাত বাঁধা এবং কচুরিপানা দিয়ে মরদেহের কিছু অংশ ঢাকা ছিল। পরে পরিবার ও স্থানীয়রা সেখান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বুধবার রাতের কোন এক সময় কেউ হামিদাদের বাড়ির পাশে একটি চিরকুট ফেলে যায়। সেই চিঠিতে সন্তান হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পূর্বশত্রুতার যের ধরে যারা হুমকি দিয়েছিল, তারাই হত্যা করেছে হামিদাকে।
হুমকি দেওয়া ওই চিরকুটে লেখা ছিল, 'তোরা যদি খুদ চালান দিস। তাহলে মনে রাখবি, তোর সন্তানদের মধ্যে একজনকে হারাবি বা তোর ভাইয়ের মেয়েকে। এটা আমার শেষ কথা।'
খাশিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বি এম বরকতউল্লাহ বলেন, পাকুড়িয়ায় হাত বাঁধা এক শিশুর লাশ পাওয়া গেছে। দেখে বোঝা যাচ্ছে, শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।
নড়াগাতী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। আমরা তদন্ত করছি। অতিদ্রুতই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এফএইচ