দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষক সেলিম হোসেন নিহতের ঘটনায় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ১০১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ আগস্ট) নিহতের বাবা সেকেন্দার আলী বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় এ মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে ১০১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয়ের আরো ৩৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারনামীয় আসামিদের মাঝে ২ জন সাবেক সংসদ সদস্য ছাড়াও রয়েছে ৫ জন উপজেলা চেয়ারম্যান, ২ জন মেয়র, বগুড়া পৌরসভার ৮ জন কাউন্সিলর, ১০ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া পুলিশ সুপার জাকির হাসান পিপিএম। তিনি জানান, আন্দোলনে শিক্ষক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি শুক্রবার রেকর্ড করা হয়েছে।
জানা যায়, নিহত সেলিম হোসেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার পালিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ও কাহালু উপজেলার মুরইল লাইট হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪ আগস্ট সেলিম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বগুড়ার সাতমাথায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাদি সেকেন্দার আলীর আইনজীবী ও বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুল বাসেত বলেন, সেলিম হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাননি। ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় শেখ হাসিনা এবং ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ কারণে এ দুজনকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে আসামি করা হয়েছে। এ দুজন বাদেও মামলায় আরও ৯৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
এদিকে মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বগুড়া-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান রিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি টি জামান নিকেতা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহন, এ কে এম আসাদুর রহমান দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদৎ আলম ঝুনু, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফি নেওয়াজ খান রবিন, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হাসান ববি, বগুড়া জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান শুভাশীষ পোদ্দার লিটন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ভিপি সাজেদুর রহমান শাহীন, সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রহমান শান্ত, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা, সাধারণ সম্পাদক আল মাহিদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক দুই সভাপতি আল রাজি জুয়েল ও নাঈমুর রাজ্জাক তিতাস, সাবেক দুই সাধারণ সম্পাদক মাশরাফি হিরো ও অসীম কুমার রায়, শহর আওয়ায়ী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান আকন্দ, বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান, চেম্বারের সহসভাপতি ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাফুজুল ইসলাম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সুফিয়ান সফিক, শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তা ও সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান মানিক, শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু, বগুড়া পৌরসভার কাউন্সিলরদের মধ্যে আলহাজ শেখ, আরিফুর রহমান, আমিনুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, রেজাউল করিম ডাবলু, এম আর ইসলাম রফিক, আবদুল্লাহ আল মামুন ক্যালে, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক খালেকুজ্জামান রাজা, ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসিফ ইকবাল খান, নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন রানা, আনিসুর রহমান, ফিরোজ কামাল ফারুক, রায়নগর ইউপি চেয়ারম্যান শফিক, মোকামতলা ইউপি চেয়ারম্যান সবুজ, বগুড়া জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক জাকারিয়া আদিল, আটমূল ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন, শিবগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শহীদ, বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাসিমুল বারী নাছিম, সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ, শহর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনন্দ চন্দ্র দাসসহ আরও অনেকে।
এফএইচ