দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নোয়াখালীর হাতিয়ায় শেখ হাসিনা পদত্যাগের পর আনন্দ মিছিলে হামলা ও মারধর করায় সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ তাদের পরিবারের পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এতে ছাত্র- জনতার ওপর হামলা, মারধর ও গুলির হুকুম করায় নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের গ্রেপ্তার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। মামলায় তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস, বড় ছেলে উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক আলী অমি ও ছোট ছেলে মাহতাব আলী অদ্রি ও ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ লিটনসহ আসামি করা হয় ১৩৮ জনকে।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) মামলাটি হাতিয়া থানায় নথির্ভূক্ত করা হয়। এর আগে সোমবার (১২ আগস্ট) রাতে হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরকৈলাশ গ্রামের বাসিন্দা আবদুল করিম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে সাংসদ মোহাম্মদ আলীর পরিবারের পাঁচজন ছাড়াও ১৮জনের নাম উল্লেখ ও ১২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা সবাই এমপি মোহাম্মদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বিকালে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও নতুন অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের করে স্থানীয় ছাত্র-জনতা। মিছিলটি চরকৈলাশ গ্রামের ওছখালী-সাগরিয়া সড়কের এমপির পোল এলাকায় পৌঁছলে সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী আয়েশা ফেরদাউস, ভাই মাহবুব মোর্শেদ লিটন ও ছেলে আশিক আলী অমির নির্দেশে ও নের্তৃত্বে সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে বাদী আবদুল করিম, সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাছির ও হাতিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওসমান গণিসহ অনেকে আহত হন। এছাড়া সন্ত্রাসীরা সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. রুবেল উদ্দিনের একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এতে এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিসান আহমেদ বলেন, কারাগারে প্রেরণকৃত মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী আয়েশা ফেরদাউস ও ছেলে আশিক আলী অমিকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার
দেখানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট দিবাগত রাত ৩টার দিকে হাতিয়া উপজেলার বাসভবন থেকে এমপি মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক এমপি আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে নৌবাহিনী হেফাজতে নেয়। সোমবার (১২ আগস্ট) সকালে তাদেরকে পুলিশ ও নৌবাহিনীর একটি বিশেষ দল হাতিয়া থেকে জেলা সদরে নিয়ে আসে। এরপর তাদের সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সুধারাম মডেল থানায় রাখা হয়।
সোমবার (১২ আগস্ট) বিকালে থানা-পুলিশ তাদের ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে নথিপত্র হাতিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করলে শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এফএইচ