দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পদ্মা-যমুনা নৌরুটে দীর্ঘদিন যাবৎ বালুবাহী বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজি করছে চিহ্নিত কিছু জলদূস্যরা। বাল্কহেড থেকে জলদূস্যদের নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ করেন বাল্কহেড মালিক পক্ষ ও বৈধ বালু ব্যবসায়ীরা।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলাধীন সরকারী ইজারা প্রদানকৃত বালুমহাল হইতে বালু ক্রয় করিয়া দেশের বিভিন্ন জেলায় নেওয়া হয়। কিন্ত মানিকগঞ্জ জেলা আন্দারমানিক, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কলাবাগান, ফরিদপুর জেলার সিএনবি ঘাট ও ঢাকা জেলার দোহার এলাকায় “এশিয়ান বিল্ডার্স” এর স্বত্তাধীকার আবিদ হাসান বিপ্লব এর নেত্বতেৃ তার সহযোগিরা প্রতিনিয়ত আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, চাপাতি, লাঠি ও বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বালু পরিবহনকৃত ভাল্কহেড থেকে জোরপূর্বক মোটা অংকের টাকা চাঁদাবাজি করে নিচ্ছেন।
একাধিক ভুক্তভূগিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বালু ফুট প্রতি ৫০ পয়সা অর্থাৎ বাল্কহেড এর মাঝে ১০হাজার ফুট বালু থাকলে ৫ হাজার টাকায় জোর করে আদায় করছে।
সেই হিসেবে দেখা যায়, প্রতিদিন শতাধিক বালুবাহী বাল্কহেড থেকে ৫লক্ষাধিক টাকা চাঁদাবাজি করছেন “এশিয়ান বিল্ডার্স” এর স্বত্তাধীকার আবিদ হাসান বিপ্লব ও তার সহযোগিরা।
বালু ব্যবসায়ী এবং বাল্কহেড এর মালিক মোয়াজ্জেম হোসেন মুক্তার বলেন, আমি একজন বৈধ বালু ব্যবসায়ী। আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকারী-বেসরকারী কাজে বালু সরবরাহ করে থাকি। কিন্ত কিছুদিন যাবৎ “এশিয়ান বিল্ডার্স” এর স্বত্তাধীকার আবিদ হাসান বিপ্লব ও তার সহযোগিরা প্রতিনিয়ত আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, চাপাতি, লাঠি ও বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নৌরুটে চলাচলরত বালুবাহী বাল্কহেড থেকে জোড় পূর্বক চাঁদা নিয়ে থাকেন। চাহিদা মত চাঁদা দিতে অস্কীকার করলে অস্বাভাবিক নির্যাতন করে। আমি বাধ্য হয়ে নৌপুলিশ বরাবর “এশিয়ান বিল্ডার্স” এর স্বত্তাধীকার আবিদ হাসান বিপ্লব ও তার সহযোগিদের বিরোদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছি।
নৌরুটের চাঁদাবাজি অভিযোগের বিষয়ে জানতে “এশিয়ান বিল্ডার্স” এর স্বত্তাধীকার আবিদ হাসান বিপ্লব এর সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেনি।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির (ভারপ্রাপ্ত) ইনচার্জ (এসআই) ফরিদ জানান, আমি শুনেছি সিরাজগঞ্জ থেকে বালুবাহী যে সকল বাল্কহেড ভাটির দিকে আসে। সেই বালুবাহী বাল্কহেড থেকে হরিরামপুর চর মালিক পক্ষ অবৈধ ভাবে টাকা আদায় করে। তবে সেই বাল্কহেড গুলো পদ্মা নদী ব্যবহার না করে যমুনা নদী হয়ে ঢাকা জেলা দোহারসহ বিভিন্ন এলাকায় যায়।
পাটুরিয়া থানা নৌপুলিশ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, আমি জানতে পেরেছি হরিরামপুর এলাকার চর মালিক পক্ষ বালুবাহী বাল্কহেড থেকে অবৈধ ভাবে টাকা আদায় করছে। আমি এব্যাপারে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করি। আমরা যখন অভিযান পরিচালনা করি তখন নৌরুটে কোন চাঁদাবাজ পাওয়া যায় না। তবে ভাটির দিক থেকে চাঁদাবাজি হতে পারে।
এমএ