দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, দ্রুততার সাথে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আকাংখা থেকে এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছি আমরা।
মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকালে নাটোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে বিচারপ্রার্থীদের বিশ্রামাগার ন্যায়কুঞ্জ’র ভবন উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, একজন বিচারপ্রার্থী যখন আদালতে আসেন তখন সবার প্রথমে একজন আইনজীবীর সাহায্য খোঁজেন। বিচারপ্রার্থীগণ আইনের জটিলতা বোঝেন না, সেটা বোঝা তাদের পক্ষে সম্ভবও নয়। তারপরও তারা পরম নির্ভরতায় আইজীবীর উপর সম্পদ ও স্বাধীনতা রক্ষার গুরুভার অর্পণ করেন।
তিনি বলেন, আইনপেশার শত বছরের সুনাম ও ঐতিহ্যই তাদের এ নির্ভরতার কারণ। এ নির্ভরতার সম্পর্ক আপনাদের জন্যে একটি আমানত। এ আমানত রক্ষা করার দায়িত্ব প্রত্যেক আইনজীবীর। আমি বিশ্বাস করি, পেশাগত দায়িত্ব সুচারুরুপে সম্পাদনের মাধ্যমে আইনজীবীগন এ আমানত সর্বদাই রক্ষা করে চলবেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, বার ও বেঞ্চের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্কের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ খুবই জরুরী। বার ছাড়া আদালত চলে না, আবার আদালত ছাড়া বারেরও মূল্য নেই। বার যদি আদালতকে শ্রদ্ধা না করে বা আদালত যদি বারকে মূল্যায়ন না করে-তাহলে দুই পক্ষই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, সামাজিকভাবে আমরা যদি সচেতনতা বাড়াই, তাহলে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মামলা হবে না। মামলা দিন দিন কমে যাবে। এর জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের সারাদেশে যে সংখ্যক বিচারক আছেন। একটি পরিসংখ্যানে দেখেছি, তারা প্রতি বছর নতুন দায়ের করা মামলার ৮০ শতাংশ শেষ করতে পারেন। বাকী ২০ শতাংশ থেকেই যায়। যদি মামলা করার প্রবণতা না কমে, তাহলে মামলা কোনোদিনই শেষ হবে না। সমাজে কোনো ঘটনায় দ্রুত মামলা দায়ের না করে সামাজিক সালিশ ও বিচারের মধ্য দিয়ে মীমাংসা করলে মামলা কমে যাবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অম্লান কুমার জিষ্ণুসহ আদালতের বিচারক, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ আইনজীবীরা।
ন্যায়কুঞ্জ উদ্বোধন শেষে বিচারপতি আদালত চত্বরে দুটি গাছের চারা রোপণ করেন। ন্যায়কুঞ্জে বিচারপ্রার্থীদের বসার ব্যবস্থাসহ ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট ও গ্রোসারি দোকান ব্যবস্থা রয়েছে। সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় ন্যায়কুঞ্জ’র নির্মাণ কাজ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স পূর্বাঞ্চল ট্রেড।
এফএইচ