দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বাগেরহাটে জমে উঠেছে পশুর হাট। পরম যত্নে লালিত কুরবানির পশু ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভীড়ে সরগরম হাটগুলো। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে কুরবানির জন্য পশু ক্রয়ের জন্য হাটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিন্নমত থাকলেও, বিক্রি বেড়েছে পশুর। স্থায়ী-অস্থায়ী ৩০টি হাটে এবার কুরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।
জেলার সব থেকে বড় পশুর হাট ফকিরহাটের বেতাগা পশুর হাট। শুক্রবার বিকেলে এই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় দেখা যায়। বিক্রিও হয়েছে ভাল। হাটের ইজারাদের তথ্য অনুযায়ী বিকেল পর্যন্ত দুই হাজার পশু বিক্রি হয়েছে এই হাটে।
হাট থেকে গরু ক্রয় করা খুলনার দাকপ উপজেলার বাজুয়া এলাকার মো. নয়ন বলেন, অনেকক্ষণ ঘুরে একটা গরু কিনলাম। সাথে বাচ্চারা ছিল, সবার পছন্দ হয়েছে। তবে দামটা একটু বেশি মনে হয়েছে।
মেয়েকে নিয়ে গরু কিনতে আসা মানজুরুল করিম বলেন, আগে তিনটি হাট দেখেছি, চাহিদামত গরু দামে না হওয়ায়, কিনতে পারিনি। অপেক্ষা করছি, মোটামুটি সাধ্যের মধ্যে ক্রয় করে নিয়ে যাব।
কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন শেষ দিনের হাটের জন্য। কারণ গরু ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে দুই-একদিন রাখাও বেশ কষ্টসাধ্য। শামিমুর রহমান নামের এক ব্যক্তি বলেন, কুরবানি উপলক্ষে হাটে-হাটে ঘুরতেছি, গরু দেখতেছি। তবে গরু কিনব রোববার, কারণ গরু বাড়িতে নিয়ে দুই-একদিন রাখাটা অনেক কষ্টের।
এদিকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সারা বছরই গোখাদ্যের দাম বেশি ছিল। যার কারণে গরু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া উপায় নেই, কাঙ্খিত দামে বিক্রি করতে না পারলে লোকসান গুণতে হবে।
যশোর থেকে ২৩টি গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী জয়নাল শেখ বলেন, ২৩টি গরু নিয়ে আসছিলাম। ১৬টি বিক্রি করেছি, সামান্য লাভ হয়েছে। এখনও ৭টি আছে, অপেক্ষা করছি। আজকে না হলে, ঈদের আগে লস হলেও ছেড়ে দিতে হবে।
রামপালের চাকশ্রী এলাকার গরুর ব্যবসায়ী দিদারুল ইসলাম বলেণ, ভূষি, খৈল, পালিশ, ভুট্টা ও গরুর বিভিন্ন ঔষদের প্রচুর দাম। এখন এমন অবস্থা, গেল বারের থেকে ১০-২০ হাজার টাকা বেশি না বেঁচলে চালান বাঁচবে না। গরুর পাশাপাশি এই হাটে ছাগল এবং মহিষও আনা হয়েছে বিক্রির জন্য।
বাজারের ইজারাদার আনন্দ দাস বলেন, সারা বছর সপ্তাহে দুই-দিন অর্থ্যাৎ শুক্র ও সোমবার এই হাট বসে। দূর-দূরান্ত থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা যেমন গরু নিয়ে আসে, তেমনি বিবিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারাও আসেন এখানে গরু তিনতে। ঈদ উপলক্ষে হাটটি আরও জমজমাট হয়ে উঠেছে। আজকে ২ হাজারের বেশি গরু বিক্রি হয়েছে। শনি ও রবিবারও হাট চলবে।
জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার বাগেরহাটে ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে স্থায়ী-অস্থায়ী ২৩টি পশুর হাট বসেছে। প্রকৃতপক্ষে হাটের সংখ্যা ৩০টির বেশি। এসব হাটে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আড়াই শতাংশ খাজনা নেওয়ার কথা থাকলেও, ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কোন কোন ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৭ শতাংশ খাজনা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বাগেরহাট জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেব আলী বলেন, এবার ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে ১ লাখ ১২ হাজার ৪১৩ টি পশু প্রস্তুত রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১০ হাজার বেশি। এসব গরু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য স্থায়ী অস্থায়ী ২৩ টি পশুর হাট বসেছে। এর পাশাপাশি অনলাইনে এবং খামার থেকে সরাসরি পশু বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অনলাইনে বেঁচা-বিক্রিতে তেমন সারা নেই।
এমএ