দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চুয়াডাঙ্গায় আন্ত:জেলা অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় ০৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত কয়েকদিন অভিযান চলিয়ে পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তার করে। সর্বশেষ শুক্রবার (৭ জুন) দিবাগতরাতেও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা পুলিশের কনফারেন্স রুমে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) নাজিম উদ্দীন আল আজাদ।
প্রেস ব্রিফঙে চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) নাজিম উদ্দীন আল আজাদ জানান, জেলায় ঐতিহ্যবাহী ডুগডুগি, শিয়ালমারি পশুর হাট সহ মোট ১১টি পশুর হাট রয়েছে। ঈদ-উল-আযহা অর্থাৎ কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিটি পশুর হাটই জমজমাট হয়ে ওঠে। পশুর হাট গুলো শুরু হওয়ার সাথে সাথেই প্রায় প্রতি বছরই অজ্ঞান পার্টির মলম পার্টি, প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম দৌরাত্ম বেড়ে যায়।
এছাড়াও পরিবহনগুলোতেও বাসের যাত্রীবেশী অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা টার্গেট করে সাধারণ যাত্রীদের অজ্ঞান করে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকাসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
জেলায় গত ১৬ ফরিদপুরের ইউনুস শেখ শিয়ালমারি হাটে, ২৩ জীবননগর কালীগঞ্জ সড়কের পশু হাসপাতালের সামনে সানোয়ার হোসেন (৪৫), ৩০ আলমডাঙ্গা শমসের আলী শিয়ালমারি হাটে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে। সর্বশেষ অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ৩ জুন ডুগডুগির হাটে নোয়াখালীর জসিম উদ্দিনকে টার্গেট করে চেতনা নাশক ঔষধ প্রয়োগ করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়ার সময় হাতে নাতে বাগেরহাটের বাচ্চু মাঝি নামের একজন গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পরই অজ্ঞান পার্টির এই চক্রকে গ্রেপ্তারে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা, জীবননগর থানা, দর্শনা এবং দামুরহুদা থানা সহ চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে অজ্ঞান পার্টির আন্ত:জেলা দলের সক্রিয় সদস্য জেলার সন্তোষপুর গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে ইব্রাহিম ওরফে ইব্রা (৫০) মৃগমারী গ্রামের নওশাদ মন্ডলের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৪৭) ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত রইচ উদ্দীনের ছেলে সালামত (৫৫) বোয়ালমারী গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে শাহাবুদ্দিন ওরফে সুখচান (৩০) গ্রেপ্তার করে।
এছাড়াও পূর্বে জেলার দুধপাতিলা গ্রামের গোলাপ মন্ডলের ছেলে হাসেম আলীকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় চেতনানাশক পাউডার ও চেতনানাশক ঔষধ মিশ্রিত জুস উদ্ধার করেছো পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে টার্গেট ভিকটিমকে চেতনানাশক প্রয়োগ করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্তকালে আমরা এই চক্রের বেশ কিছু নাম পেয়েছি তাদের চলমান কার্যক্রম মনিটর করা হচ্ছে। এই চক্রের সকল সদস্যকে আইনের আওতায় আনার জন্য সুষ্ঠু তদন্ত এবং গ্রেপ্তার অভিযান চলবে।
এদিকে তিনি আরো জানান আসামীদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি। অজ্ঞান পার্টির প্রতারক চক্রের সদস্যরা গরুর হাটে এসে টার্গেট করে বাহিরে জেলার গরুর ব্যাপারীদের, এরপর ওই ব্যাপারীর সাথে ভালো সম্পর্ক করে সক্ষতা গড়ে তুলে বিশ্বস্ত হওয়ার পরই যেকোনভাবে চেতনাশক ঔষধ প্রয়োগ করে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়। আর এই কাজে সহযোগিতা করে স্থানীয়ভাবে যারা প্রতারক চক্রের সদস্য থাকে তারা।
এম