দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার হলহলিয়া গ্রামে স্ত্রী মৌ আক্তার ও খালা শাশুড়ি আলেয়া বেগমকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পাঁচ দিন পর ঘাতক রুবেল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (২ জুন) সন্ধ্যায় বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের মাসুন্দি গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (৩ জুন) দুপুরে ১৬৪ স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি নেওয়ার জন্য তাঁকে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়েছে।
জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নুরে আলম সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানিয়েছে। সোমবার পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসপি মোহাম্মদ নুরে আলম বলেন, রুবেল হোসেন তাঁর শ্বশুরবাড়ি ঘরজামাই থাকতেন। রুবেলের বাড়ি নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে। রুবেলের শাশুড়ি কমলার বেগম পাঁচ বছর ধরে সৌদিআরবে গৃহ পরিচারিকা কাজ করছেন। রুবেলের শ্বাশুড়ি তাঁর মেয়ে মৌ আক্তার মিতুর নামে দেশে টাকা পাঠাতেন। রুবেল ছোট্ট চায়ের দোকান করতেন। রুবেলের তাঁর প্রবাসী শ্বাশুড়ির পাঠানো টাকা স্ত্রীর কাছে পাননি। এছাড়া রুবেলের স্ত্রী অন্য পুরুষের সাথে দীর্ঘক্ষণ মুঠোফোনে কথা বলতেন। এ কারণে স্ত্রীর পরকীয়া আছে বলে রুবেল সন্দেহ করতেন ও পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। এসপি বলেন, রুবেল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, গত ২৭ মে সকাল সাড়ে এগারোটায় রুবেল হোসেন দোকান থেকে বাড়িতে ফিরে এসে স্ত্রীর কাছে ভাত চেয়ে পায়নি। তখন বিছানায় শুয়ে রুবেলের স্ত্রী মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। এতে রুবেলে তাঁর স্ত্রী মৌ আক্তার মিতুকে পেটসহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করেন। তখন মৌ আক্তার স্বামীর হাত থেকে বাঁচতে চিকিৎকার শুরু করে। মৌ আক্তারের চিৎকার শুনে তাঁর খালা আলেয়া বেগম পাশের ঘর থেকে ছুটে আসলে রুবেল হোসেন তাঁর পেটেও ছুরিকাঘাত করে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন আলেয়ার ছেলে নীরব হোসেন তাঁর মা ও খালাতো বোন বাঁচাতে গেলে তাঁর হাতে ছুরিকাঘাত করে রুবেল পালিয়ে যান।
গ্রামবাসীরা এসে রুবেলের স্ত্রী মৌ আক্তার, তাঁর খালা আলেয়া বেগম ও নীরবকে হোসেন রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাকসুদুল আলম আলেয়া বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। মুমূর্ষবস্থায় মৌ আক্তারকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পথেই রুবেলের স্ত্রী মৌ আক্তার মিতু মারা যান। নিহত আলেয়া বেগমের ছেলে নীরব হোসেনকে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার নিহত আলেয়ার ছেলে সজিব আকন্দ বাদি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এম