দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরে নিখোঁজের একদিন পর হাত-পা, মুখ ও চোখ বাঁধা অবস্থায় কলেজ পড়ুয়া এক কিশোরীকে ব্রিজের ওপর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করায় প্রেমিক সিয়াম ও তার সঙ্গীরা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ব্রিজের নিচে ফেলে গেছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারের পর ভুক্তভোগী এই কিশোরী।
শনিবার (১ জুন) উদ্ধার করে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত সিয়াম পেদা (১৯) ডামুড্যা উপজেলার সিঁদুলকুড়া ইউনিয়নের ছোট সিঁদুলকুড়া গ্রামের খোদা বক্স পেদার ছেলে। সে গোসাইরহাটের সরকারি শামসুর রহমান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ওই কিশোরীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোসাইরহাটের সরকারি শামসুর রহমান কলেজের শিক্ষার্থী সিয়াম পেদার সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল ওই কিশোরীর। সম্প্রতি তাদের প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন হলে অন্তত ২০ দিন আগে সম্পর্ক ছিন্ন করে ওই কিশোরী। এরপর থেকেই তার ওপর ক্ষিপ্ত হন প্রেমিক সিয়াম।
বৃহস্পতিবার ওই কিশোরী কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিল। সে ডামুড্যার ফরাজির টেক পৌঁছালে সিয়াম ও তার চার সহযোগী ওই কিশোরীর গতিরোধ করে এবং কিছু না বোঝার আগেই তার হাত-মুখ বেঁধে পরিত্যক্ত একটি ঘরে নিয়ে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
এদিকে ওই কিশোরী বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করতে থাকে। পরিবারের লোকজন তাকে কোথাও না পেয়ে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি ডামুড্যা থানা পুলিশকে জানায়। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ডামুড্যা থানা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভুক্তভোগীর বাবা জানতে পারে ডামুড্যার সিঁদুলকুড়া কাঠের ব্রিজের ওপর হাত-পা, চোখ মুখ বাঁধা অবস্থায় এক কিশোরীকে পাওয়া গেছে। এরপর ভুক্তভোগীর বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কিশোরীকে শনাক্ত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে পালাক্রমে ধর্ষণের কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এ ব্যাপারে ওই কিশোরী বলেন, প্রেমের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করায় কলেজ থেকে ফেরার পথে সিয়াম ও তার সঙ্গে থাকা চারজন ব্যক্তি হাতমুখ বেধে অজ্ঞান করে আমাকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। এরপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে তারা আমার হাত-পাতা, মুখ চোখ বেধে ব্রিজের ওপর ফেলে রেখে যায়।
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, মেয়ে নিখোঁজ হলে থানা পুলিশকে বিষয়টি জানাই। রাতে বাড়ি ফেরার পথে জানতে পারি মেয়ে হা-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় সিধলকুড়া ব্রিজে পড়ে আছে। পরে পুলিশসহ মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। যারা আমার মেয়ের সঙ্গে এমন করেছে তাদের সকলের উপযুক্ত বিচার চাই। যাতে অন্য কোনো বাবার সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিয়াম পেদার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ওসি এমারত হোসেন বলেন, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক কিশোরীকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরএ