দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের চারিখাদা গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাঁশের বেড়ায় তিনমাস যাবত অবরুদ্ধ পরিবারটি। প্রতিকার চেয়ে আদালতে অভিযোগ করায় ভূমি কর্মকর্তার উপস্থিততে হামলার স্বীকার হয়েছেন বলে অভিযোগ।
জানাগেছে, নড়াইল সদর উপজেলার চারিখাদা গ্রামের নজরুল ইসলামের সাথে তাঁর চাচাতো ভাই হাসান মোল্যা, জিন্নাত মোল্যাদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত তিনমাস আগে নজরুল ইসলামের বাড়ি চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। ভুক্তভোগী নজরুল ইসলামের পরিবার আদালতে একটি অভিযোগ করেন। বিরোধ পূর্ণ তফসিলি জমি সদর উপজেলার চারিখাদা মৌজার আরএস খতিয়ান নং-৩০১। আরএস ১৮৫ দাগের ১৬ শতকের মধ্যে ৫ শতক এবং আর এস ১৮৬ দাগের ৯১ শতকের মধ্যে ১৫ শতক মোট ২০ শতক জমি।
এর প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (৩০মে) বেলা ১১ টার দিকে মাইজপাড়া ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্তে যান। এসময় ভূমি কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই নজরুল ইসলামের পরিবারের সকলকে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেন। গালিগালাজ করতে নিষেধ করায় নজরুল ইসলাম ও তাঁর দুই ছেলে বাশিরুল ইসলাম ও মাহিউল ইসলাম মিলনকে মারধর করে। এসময় ঠেকাতে গেলে নজরুল ইসলামের পুত্রবধূ পাখী বেগমকেও মারপিট করা হয়।
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলামের বড় ছেলে মাহিউল ইসলাম মিলন বলেন, আদালতের মামলার তদন্ত করতে ভূমি অফিস থেকে আমাকে জানানো হলে আমি বাড়িতে যায়। ভূমি কর্মকর্তার সামনে আমাদের পরিবারের সবাইকে মারধর করে। আমরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় আছি। ছোট ছেলে বাশিরুল ইসলাম বলেন, আমরা এখানে ৬০/৭০ বছর যাবৎ এখানে বসবাস করছি। হঠাৎ করে এই জমি তাদের দাবি করে বাড়ি চারিপাশে বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছে। একাধিকবার আমাদের উপর হামলা করে মারপিট করেছে।
প্রায় তিনমাস ধরে আমরা সরু একটা পথ দিয়ে অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে চলাচল করছি। এতে চরম ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছিল। এর আগেও বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।
ছোট ছেলে বাশিরুল ইসলামের স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাখি বেগম বলেন, আমার দেবর-স্বামী-শ্বশুরকে মারধর করছিলো। আমি ঠেকাতে গেলে আমাকেও মারধর করে।
ভুক্তভোগী আশি বছরের নজরুল ইসলাম বলেন, এই জমিতে আমরা বসবাস করি। জমির কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। এরপরও আমাদের অন্য শরীকরা ওই জমি দাবি করে বেড়া দিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছেনা। আদালতে মামলা দিয়েছিলাম। যার কারণে ভূমি কর্মকর্তা এসেছিলেন পরিদর্শনে, তাঁর সামনে আমাদের পরিবারের সবাই মারধর করেছে।
অভিযুক্তদের পক্ষের জিন্নাত মোল্যা বলেন, সম্প্রতি জমি মাপামাপির পর ওই জমিটা আমাদের মধ্য পড়ে। জমিটা মূলত আমাদের, ওরা ভোগদখল করত। পরে ওদের কাগজপত্র দেখাতে বললে ওরা যে কাগজপত্র দেখায়, তা গ্রহণযোগ্য না। পরে ওই জায়গা ঘেরা হয়। মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার তিনি আরও বলেন, কথার প্রসঙ্গে একটু গলা ধরে ঠেলাঠেলি, হাত ধরে ঝাকাঝাকি হয়ছে। সেরকম কোন মারামারি হয় নি বলে দাবি করেন তিনি।
সদর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভূমি কর্মকর্তার সামনে তাঁদের ধাক্কাধাক্কি-হাতাহাতি হয়। এ ব্যাপারে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানান ওসি।
এম