দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাগেরহাটের ফকিরহাট ও চিতলমারীতে বর্তমান চেয়ারমান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের ভরাডুবি হয়েছে। দুই উপজেলায় ৬টি পদে নতুন প্রার্থীরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ফকিরহাটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দাসকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা যুবলীগ নেতা সেখ ওয়াহিদুজ্জামান বাবু। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে স্থগিত করা হয়েছিল বাবুর নেতৃত্বাধীন উপজেলা যুবলীগের কার্যক্রম। এর পরেও ভোটের হিসেবে শেষ হাসি হেসেছেন বাবু।
এই নির্বাচনে সেখ ওয়াহিদুজ্জামান বাবু মোটরসাইকেল প্রতীকে ৪৬ হাজার ৬৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দাস পেয়েছেন ২৯ হাজার ৭৭৭ ভোট। এই উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে নতুন প্রার্থী শেখ ইমরুল হাসান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তহুরা খাতুন নির্বাচিত হয়েছেন।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বপন কুমার দাস বাগেরহাটে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। ফকিরহাটে আওয়ামী লীগে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তি তিনি। এরপরও একজন যুবলীগ নেতার কাছে তার পরাজয়ে উপজেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা, ধর্মীয় বিষয়ে অতিমাত্রায় সংবেদনশীলতা, দলীয় কর্মীদের অবমুল্যায়ন ও দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে পরাজয় বলে জানান উপজেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ এক প্রবীণ নেতা।
মহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে দাদা (স্বপন কুমার দাস) স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছিল। সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রায়ই দুর্ব্যবহার করতেন। এ কারণেই তাকে মানুষে ভোট দেয়নি।
এ বিষয়ে কথ বলার জন্য কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে চিতলমারী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দীর্ঘদিন ধরে দলের বাইরে থাকা বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা আবু জাফর মো. আলমগীর হোসেনের কাছে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অশোক কুমার বড়াল বিপুল ভোটে হেরেছেন। আবু জাফর মো. আলমগীর হোসেন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ১১১ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অশোক কুমার বড়াল মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৭ হাজার ৮৫৭ ভোট। উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী এই নেতার ভরাডুবি নিয়ে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা করছেন নাগরিকরা।
সাধারণ ভোটাদের ভাষ্যমতে, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ মাহাতুজ্জামানের পক্ষে ভোট প্রার্থনা, সাধারণ মানুষের কাছে কম যাওয়া, ক্ষমতার অপব্যবহার নিজ বংশের লোকদের সঙ্গে দুঃসম্পর্কের কারণে তার এই ভরাডুবি হয়েছে।
এছাড়া, এই উপজেলোয় বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নতুন প্রার্থী কাজী আজমীর আলী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রথমবারের মতো সুলতানা মল্লিক জয় লাভ করেছেন।
জানা গেছে, চিতলমারী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন আবু জাফর মো. আলমগীর হোসেন। ২০০০ সালের ২০ আগষ্ট বাগেরহাট শহরের সাধনার মোড়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগ ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা অ্যাড. কালিদাস বড়াল। কালিদাস বড়াল হত্যা মামলায় আলমগীর হোসেনকে আসামি করা হয়। এবং দল থেকে বহিস্কার করা হয়। দীর্ঘদিন কারাভোগের মামলায় তিনি নির্দোষ প্রমানিত হওয়ায় বেকসুর খালাস পান। এরপর বাড়িতে ফিরে বারবার বাদশা বাহিনীর হামলার শিকার হন। মূলত হামলা, মামলা ও ক্ষমতাসনদের অত্যাচারের ফলে আলমগীরের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।
ভোটার হাসমত গাজী, নজরুল তালুকদার, মিঠু বিশ্বাস ও ফারুক হোসেন জানান, আলমগীরের প্রতি দুর্বব্যবহার, বর্বরতার জবাব দিয়েছেন সাধারন মানুষ। তারা ভালবাসার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
নাম প্রকাশ করার শর্তে প্রবীণ এক কলেজ শিক্ষক জানান, স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার আখের গোছানোর কারণে দলে নিবেদিত প্রাণরা আজ দূরে সরে গেছে। সুযোগ পাওয়ায় সাধারণ ভোটাররা জবাব দিয়েছেন।
চিতলমারী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সমীর কর্মকার পাগলা বলেন, শেখ মাহাতাবুজ্জামানসহ কয়েকজন উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও টেন্ডারবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। তাদের কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। সেই সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে সাধারণ মানুষ আলমগীর ভাই, সুলতানা ও আজমীর কাজীকে ভোট দিয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফলে আওয়ামী লীগের দুই নেতার ভরাডুবির কারণ জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভুইয়া হেমায়েত উদ্দিন বলেন, চিতলমারী ও ফকিরহাটে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। এখানে যে প্রার্থী জিতেছেন তিনি মূলত আঞ্চলিকতার জন্য জিতেছেন। তিনি যে এলাকার লোক সেখানকার লোক একাট্টা হয়ে এলাকার প্রার্থী জিতানোর জন্য কাজ করছেন এবং ভোট দিয়েছেন। এটাই মূল বিষয়, হেরে যাওয়া প্রার্থী ও দলের কোন সমস্যা না।
এফএইচ