দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আগামী ৮ মে থেকে চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকারের উপজেলা নির্বাচন। এর দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ফরিদপুরসহ পাবনার ৩টি উপজেলার নির্বাচন।
এ সরকারের অধীনে দলীয় প্রতীকবিহীন এ নির্বাচনে বিএনপি নেতাকর্মীদের অংশ না নিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও কেন্দ্রের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে পাবনার ফরিদপুর উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন বিএনপির দুই নেতা।
জনগণের সমর্থন ও দাবি পূরণের লক্ষ্যে এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে দাবি তাদের। তবে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাবনার বিএনপি নেতাকর্মীরা।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া দুজন হলেন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিয়াউর রহমান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাসরিন পারভীন মুক্তি।
জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন বিএনপির স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর আগে তিনি ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে নাসরিন পারভীন মুক্তি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দশ বছর ধরে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকারের প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে পাবনায় বিএনপির কেউ মনোনয়নপত্রই তোলেননি। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফরিদপুর উপজেলা নির্বাচনে মনোয়নয়ন ফরম তোলেন জিয়াউর রহমান ও মুক্তি। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) মনোয়ন প্রত্যহারের শেষ দিন হলেও তারা কেউই প্রত্যাহার করেননি। এ বিষয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশ নিতে যাওয়া জিয়াউর রহমান বলেন, দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে আমি নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে জনসংযোগসহ সমাজসেবামূলক কাজ করেছি। মানুষের সংস্পর্শে থেকেছি। ইতোমধ্যে এ অঞ্চলে আমার একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। এখন দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই। তাই দল থেকে যে সিদ্ধান্তই আসুক মানুষের জন্য এ নির্বাচনে আমি অংশ নিচ্ছি।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশ নিতে যাওয়া নাসরিন পারভীন মুক্তি বলেন, মানুষের সংস্পর্শে না থাকলে তাদের দু:খ কষ্ট বোঝা যায় না। দীর্ঘ দশ বছর আমি এ উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছি। রাজনীতির পাশাপাশি এই চেয়ারটির (মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ) জন্য অন্তত কিছু মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছি। এটিকে আমার কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ প্রচেষ্টার জায়গা থেকেই আমি এ নির্বাচনে লড়ছি।
এদিকে এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে কোনো প্রহসনের অংশ হতে চান না বলে নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপি। তবে দলের এ নীতিগত সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ অনেক নেতাকর্মীই। এরই অংশ হিসেবে বিএনপির দুই নেতার ফরিদপুর উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
তবে এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন পাবনা জেলা বিএনপির নেতারা। এ ব্যাপারে পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাসুদ খন্দকার বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ব্যাপারে দল কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রথম ধাপে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের অধিকাংশকেই বহিষ্কার করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুর উপজেলা থেকে দুজন অংশ নিচ্ছেন, দ্রুতই তাদের ব্যাপারে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেবি