দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নোয়াখালীর হাতিয়া ও বেগমগঞ্জ উপজেলার দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচণ্ড গরমে ১৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
রোববার (২৮ এপ্রিল) সকাল সোয়া দশটা থেকে বেলা এগারোটারটার মধ্যে হাতিয়া জনকল্যাণ শিক্ষা ট্রাস্ট হাইস্কুল ও বেগমগঞ্জের আমান উল্যাপুরের জয়নারায়ণপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষকরা স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
হাতিয়া জনকল্যাণ শিক্ষা ট্রাস্ট হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষিকা ফাতেমা ইসরাত জানান, রোববার (২৮ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম শুরুর পর বিভিন্ন শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসুস্থতা লক্ষ্য করা যায়। একপর্যায়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ১১ জন, অষ্টম শ্রেণির দুজন, নবম শ্রেণির দুজন ও দশম শ্রেণির দুইজন শিক্ষার্থীসহ মোট ১৭ জনস গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের কারও পেটব্যথা কারো মাথাব্যথা কারো চোখ ব্যথা লক্ষ্য করা যায়। এ সময় একজন শিক্ষার্থী বমিও করে। শিক্ষার্থীদের এমন অবস্থা দেখে তাৎক্ষণিক শ্রেণি শিক্ষক তাকে বিষয়টি জানান। তিনি স্থানীয় পল্লী চিকিৎসককে ডেকে এনে অসুস্থ সকল শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাতিয়া জনকল্যাণ শিক্ষা ট্রাস্ট হাইস্কুলের ঘরটি টিনের হওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে আসার পর শিক্ষার্থীরা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকে। তারা এরই মধ্যে গরমের কারণে সৃষ্ট সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুভাশিষ চাকমা জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। অনেকদিন পর আজ স্কুল খুলেছে। সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
অপরদিকে, বেগমগঞ্জ উপজেলার আমান উল্যাপুরের ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় সকাল ১০টার দিকে আফিফা নামে এক ছাত্রী হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মাথায় পানি ঢালার পর তার জ্ঞান ফিরলে শিক্ষকরা তার বাবাকে ডেকে এনে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। আফিফা ওই মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ।
মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, আফিফা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। মাথায় পানি ঢালার পর সে সুস্থ্য বোধ করলে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আফিফা ছাড়াও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ বোধ করেছিল। আমরা তাদেরও ছুটি দিয়ে দিয়েছি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, গরমের কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এ বিষয়ে সকল স্কুলের শিক্ষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
জেবি