দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালীতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।
ভাঙচুর করা হয়েছে ১৫ থেকে ২০টি বাড়ি-ঘর। লুট করা হয়েছে গোয়ালের ৩টি গরু। বুধবার (১৩ মার্চ) ভোর রাত ৫টার দিকে সদর উপজেলার চরাঞ্চল অলোকবালীতে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে হামলা ও ভাঙচুর নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদ উল্লাহ ও ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু।
গুলিবিদ্ধ অলোকবালী ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু সমর্থকরা হলেন মো. মনিরুজ্জান, বজলু মিয়া, শীতল মিয়া, আল-মাহফুজ, আবদুর রহমান, খোকা মিয়া।
গুলিবিদ্ধ অলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদ উল্লাহ’র সমর্থকরা হলো বাচ্চু মোল্লার ছেলে রমজান (২৫), আজিজ মোল্লার ছেলে মোজাম্মেল (১৮), মুকবুল মোল্লার ছেলে আরিফুল (১৯)। তাদের ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমজাদ (২০) নামে একজন নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জানা যায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দীপুর সঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভেকেট আসাদ উল্লাহর দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। দ্বন্দ্বের জেরে একাধিকবার হামলা মামলা সংঘর্ষ ও একাধিক হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদ উল্লাহ সতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এ নিয়ে উভয় সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসাদ উল্লাহর বেশ কয়েকজন সমর্থক এলাকা ছাড়া হয়। বুধবার ভোর রাত ৫টার দিকে অর্ধশতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে তারা গ্রামে ফিরে আসার চেষ্টা করেন। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে গুলি বর্ষণ করেন। ওই সময় বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা দেলোয়ার হোসেন দীপুর সমর্থকরা বাধা দেয়। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয়পক্ষের ৯ জন ছড়রা (ছিটা) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়।
ওই সময় প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলা চালিয়ে ফেরার পথে হামলাকারীরা ফরহাদ নামে এক গ্রামবাসীর তিনটি গরু লুট করে নেয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে সকালে ও দুপুরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে সকালে সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে হামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদ উল্লাহ ও ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু।
আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড.আসাদ উল্লাহ বলেন, ভোর রাত ৫টার দিকে চেয়ারম্যান সমর্থকরা অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে আমার বাড়িসহ আমার সমর্থকদের উপর হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। ওই সময় তারা আমাদের ২৫ থেকে ২০টি বাড়ি ভাঙচুর করে।
অভিযোগ অস্বীকার করে আলোকবালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু বলেন, নির্বাচন ও গ্রামের মানুষের উপর হামলা করার মামলাকে কেন্দ্র করে আসাদের বেশকিছু লোক গ্রাম ছাড়া। তারা আজকে ভোরে ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের নিয়ে গ্রামে আসে। এসে তারা নির্বিচারে আমার সমর্থকদের উপর গুলি চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহামুদুল বাশার কমল জানিয়েছেন, আলোকবালীর ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ছয়জন ছিটা গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতরা ভালো আছে। খুব গুরুতর কিছু নয়।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। গুলিবিদ্ধ হওয়ার কোনো খবর পাইনি। এখন এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
জেবি