দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পরিবারে সচ্ছলতা আনতে প্রায় সাত বছর আগে মালয়েশিয়ায় যান মো. তোফাজ্জল হোসেন (৫৫)। কয়েক দিন আগে তিনি পরিবারকে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) রোজা রেখে কাজ করছিলেন তোফাজ্জল হোসেন। এই অবস্থায় তিনি স্ট্রোকে মারা গেছেন বলে সেখানকার সহকর্মীরা পরিবারকে জানিয়েছেন।
তোফাজ্জল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের ঝোড়াঘাট গ্রামের মৃত মো. আব্দুল মজিদের ছেলে।
মঙ্গলবার দুপুরে মালয়েশিয়ায় রোজা রেখে কর্মরত অবস্থায় তিনি মারা যান। তোফাজ্জল হোসেন ওই দেশের একটি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
তোফাজ্জল হোসেনের পরিবারের লোকজন জানান, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে অনেক বছর ধরে প্রবাসে অবস্থান করছিলেন তোফাজ্জল হোসেন। গতকাল স্ট্রোক করে মারা গেছেন তিনি। তারা দাবি করেছেন তোফাজ্জল হোসেনের লাশ দ্রুত দেশে আনা হোক।
তোফাজ্জল হোসেনের ভাতিজা বিপ্লব হোসেন বলেন, আমার চাচা অনেক দিন দুবাই ও ব্রুনেইয়ে ছিলেন। এরপর তিনি মালয়েশিয়ায় যান, সেখানে প্রায় সাত বছর অবস্থান করছিলেন। কিন্তু প্রথম রোজার দিন হঠাৎ শুনতে পাই আমার চাচা স্ট্রোক করে ইন্তেকাল করেছেন। সেখানে চাচার সহকর্মীরা তার এই মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন।
বিপ্লব হোসেন আরও বলেন, প্রথম রোজায় চাচা দেশে টাকা পাঠিয়ে একটি মাদরাসায় ইফতারির আয়োজন করেছিলেন। তিনিও রোজা রাখা অবস্থায় ছিলেন। চাচার সহকর্মীদের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রেখেছি, তারা যত দ্রুত সম্ভব লাশ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমার চাচা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে সেখানে ছিলেন। তারপরও যদি কোনো কাগজপত্র লাগে তাহলে এখান থেকে পাঠাব। তবে কবে লাশ দেশে আসবে আমরা বুঝতে পারছি না।
তোফাজ্জল হোসেনের বড় ভাই মরজেম আলী বলেন, আমার ভাই পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর জন্য অনেক দিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছিলেন। কয়েক দিন আগে তিনি দেশে আসার কথা জানিয়েছিলেন। হঠাৎ তার মৃত্যুর খবর শুনে আমরা হতবাক হয়ে গেছি। এখন শুধুই তার লাশের জন্য অপেক্ষা করছি।
তোফাজ্জল হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুর রহমান কমল। তিনি বলেন, তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তার লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে আমার কাছে এলে তা দিয়ে দেব।
জেবি