দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউপিতে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় শিপন আহম্মেদ (৩৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুরে সাইনবোর্ড এলাকায় পিবিআই’র জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সংস্থাটির পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার।
এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেট সদর উপজেলার কদমতলী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মামলার আসামিকে।
গ্রেপ্তারকৃত শিপন গোগনগর ইউপির সৈয়দপুর এলাকার বাসিন্দা। তার গ্রামের বাড়ি সিলেটে।
মামলার বরাত দিয়ে আল মামুন বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ৮ ও ১০ বছর বয়সী দুই শিশুকে চকলেট ও টিভিতে কার্টুন দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে শিপন শিশুদের তার ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং এ কথা কাউকে জানালে হত্যা করে মাটিতে পুতে গুম করার হুমকি দেয়।
পরে শিশুরা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি তার মা-বাবাকে বলে। পরে পরিবারের লোকজন স্থানীয়দের জানালে তারা বিচার সালিশির আশ্বাস দেন। এরই মধ্যে আসামি পালিয়ে যায়। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি অভিযুক্তের পক্ষ হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে মিমাংসার চেষ্টা করে। একইসঙ্গে আসামিকে পালিয়ে যেতেও সুযোগ করে দেন তারা।
পুলিশ সুপার মামুন বলেন, পরে ১০ বছর বয়সী শিশুর পিতা গত ১০ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা করলে স্বপ্রণোদিতভাবে তা তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ।
একই দিন আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেয় ভুক্তভোগী দুই শিশু। মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামিকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।
পিবিআই এসপি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পর্ক থাকায় সে এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা না করার জন্যও হুমকি দেয়। মামলা করলে দুই শিশুকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে বলেও হুমকি দেয়।
প্রভাবশালী ওই ব্যক্তিরা যারা ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে আসামিকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
জেবি