দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে প্রকল্পের নাম করে ইছামতি নদী থেকে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলার উথুলী ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে।
এদিকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফারুক হোসেন প্রভাব খাটিয়ে নদীর অপরপাশে খননযন্ত্র ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। তবে অভিযান পরিচালনা করে নদী থেকে মাটি বন্ধ করার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার উথুলী ইউনিয়নের কাতরাসিন গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতি নদীর দুই প্রান্ত থেকে ইউপি সদস্য মান্নান ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফারুক রাতের আধাঁরে মাটি কেটে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছেন।
অপরদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বিশেষ কোটায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় উথুলী বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন রতিনের বাড়ি থেকে ড. মীর ফেরদৌস হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুন:নির্মাণের জন্য ১৪ মে. টন চাল বরাদ্দ করা হয়।
সেখানে শ্রমিকের বদলে নদী থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে রাস্তা ভরাটের কাজ করা হচ্ছে। অবৈধভাবে নদী থেকে রাতভর মাটি কেটে আনা নেওয়া করায় ধুলোবালিতে মসজিদ, বাড়িঘর, দোকানপাট ও রাস্তাঘাটসহ আশপাশের জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।
যারা মাটি কাটছেন তারা প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি নিরবে সহ্য করে যাচ্ছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিক খান বলেন, ২০২২ সালে ইছামতি নদীতে খনন প্রকল্পে কাজ করার সময় আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে জনস্বার্থে চাঁদা তুলে নদীতে যাওয়ার রাস্তায় মাটি ভরাট করে একটি সড়ক তৈরি করি।
গত বছর মান্নান মেম্বার নদী থেকে মাটি কেটে রাস্তা নষ্ট করে। এবারও রাস্তাটি মাটি ফেলে ঠিক করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একটি প্রকল্পের রাস্তায় মাটি ফেলার জন্য সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাতের আধাঁরে নদী থেকে মাটি কাটছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, যুবলীগ নেতা ফারুক ও মান্নান মেম্বার নদী থেকে মাটি কেটে বাড়ি বাড়ি বিক্রি করছেন। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নাই। নদী থেকে মাটি কাটার সময় তারা এলাকাবাসীকে বলছে নদীতে গোসল করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। নদী থেকে ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে আবাদি জমিসহ বাড়িঘর ভাঙনের কবলে পড়বে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে প্রকল্পের রাস্তায় নদী থেকে মাটি পড়ছে। অন্য কোথাও বা কোনো বাড়িতে মাটি বিক্রি করি নাই। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে নদী থেকে মাটি কাটার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি চেয়ারম্যানের নির্দেশে কাজ করছি। উনি ভালো জানেন প্রশাসনের কোনো অনুমতি আছে কিনা?
এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা ফারুক বলেন, আমি শুধু মাটি কাটি আর বিক্রি করি। এর বাইরে কোনো জবাব আমার কাছে নাই।
প্রকল্পের সভাপতি আব্দুর রহিম মিয়া জানান, আমি বয়স্ক মানুষ। আমাকে সভাপতি করা হয়েছে। আপনি এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সঙ্গে কথা বলেন।
উথুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্বাস আলি বলেন, আমি মাটি কাটা বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত নই। প্রকল্পের রাস্তার জন্য মাটি এনে ভরাট করছি। কে কাটছে সে ব্যাপারে আমি অবগত নই।
শিবালয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুদেব কৃষ্ণ বলেন, কাতরাশিন এলাকায় কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ২২-২৩ অর্থবছরের যে কাজটি করার কথা ছিল তা মাটির অভাবে করা সম্ভব হয়নি। সেই কাজটি ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছে। আমি সরেজমিন ঘুরে বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মো. বেলাল হোসেন বলেন, কোন প্রকল্পের কাজের নামে নদী থেকে মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। অতি দ্রুত অভিযান চালিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেবি