দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জের ঘিওরে ছাগলের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী ও তার মাকে বেধড়ক পিটিয়েছেন এক ব্যবসায়ী। এ ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তৈরি হয় চাঞ্চল্য। থানায় মামলা হলে পুলিশ অভিযুক্তের স্ত্রী শাহানা আক্তারকে আটক করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের নতুন বালুচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার সকালে এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে ঘিওর থানায় মামলা করা হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অনামিকা (১৯) ও তার মা কবিতা দাশ। অনামিকা গতকাল রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে গেছেন। তাঁর মা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
ভাইরাল হওয়া ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা গেছে, উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের আলু ব্যবসায়ী আ. রাজ্জাক ওই নারীকে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছেন। স্থানীয় কয়েকজন তাকে ফেরানোর চেষ্টা করছেন। ওই নারী বাঁচার জন্য চিৎকার করে কান্না করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজ্জাকের বাড়ির পাশে উন্নত জাতের ঘাস রোপণ করা একটি জমিতে প্রতিবেশী রুপ দাশের স্ত্রী কবিতা দাশের একটি ছাগল প্রবেশ করে ঘাস খায়। কবিতা দাশ ছাগল আনতে গেলে রাজ্জাক ক্ষিপ্ত হয়ে গালি দেন। একপর্যায়ে তার হাতের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। এ সময় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কবিতা। খবর পেয়ে কবিতার মেয়ে অনামিকা তার মাকে উদ্ধার করতে গেলে রাজ্জাক তাকেও লাথি মেরে ফেলে দেন। আশপাশের লোকজন এসে মা-মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কবিতা দাশের একটি হাত ভেঙে গেছে। মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী রুপ কুমার দাশ চারজনকে আসামি করে ঘিওর থানায় মামলা করেন। মামলার আসামি আ. রাজ্জাক, তার স্ত্রী শাহানা আক্তার, ছেলে রাজ ও প্রতিবেশী শেফালী দত্ত।
ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘উভয় পক্ষের মারামারি ঘটনায় জড়িত। সংশ্লিষ্ট এলাকার মেম্বারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। অমানবিক এ ঘটনার সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুন, তাদের শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে জানতে রাজ্জাকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। গোলাপনগর তার গ্রামের বাড়িতে এবং ঘিওর বাজারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় চারজনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত শাহানা আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
জেবি