দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক। ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কে প্রায় দিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। বিশেষ করে কানসাট এলাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি। সর্বশেষ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ট্রাকের ধাক্কায় এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যান পাঁচ বছরের তার নাতি। অনেকের কাছে এ সড়কটি যেন এখন মৃত্যুফাঁদ।
গেল বছর ৯৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৮৮ জন। আর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি এই দুই মাসে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ আরও অন্তত সাতজন নারী-পুরুষ ও শিশু নিহত হয়েছে জেলায়।
মহাসড়কের ধারে কয়েকটি এলাকায় শুধু ‘দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা, আস্তে গাড়ি চালান’ এমন ধরনের কয়েকটি সাইনবোর্ড টাঙিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু এই সড়কে দিন-রাত সব সময়ই বেপরোয়া যান চলাচল করছে। সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা রোধে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কিংবা দুর্ঘটনা থামাতে কোনো পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্টদের।
চলতি সংসদ অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে এই মহাসড়ক ৪ লেন হবে কিনা জানতে চান স্থানীয় সংসদ সদস্য মু. জিয়াউর রহমান।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কে যানবাহন চালকরা যেন বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এখানে বেশি গতিতেই চলে বেশিরভাগ যানবাহন। বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের পাশাপাশি প্রচুর সংখ্যক অটোরিকশা ও স্থানীয়ভাবে তৈরি ভটভটি-নসিমনও চলাচল করে এই সড়কে।
মহাসড়কে ভটভটি, নসিমন ও অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ হলেও তা নিয়ন্ত্রণে কোনো উদ্যোগই নেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক। বেড়েছে যাত্রীবাহী যান চলাচলও। প্রতিনিদনই এ সড়কে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। কেউ কেউ সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করছে।
দুর্ঘটনা রোধে এ মহাসড়কটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয় কয়েক বছর আগে। তবে ৪০০ কোটি টাকার ওই প্রল্পটিতে আলোর মুখ দেখছে না।
বিআরটিএ’র তথ্য মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯৭টি দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ১০৫ জন। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতে মৃত্যু হয়েছে ৭জনের। আহত হয়েছে ৪ জন।
বাস চালকরা বলছেন, একই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলছে। এ মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক রফিক হাসান বাবলু।
তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রচুর সংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি তা আরও বেড়েছে। সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চালকদের অসচেতনতা, অদক্ষতা, লাইসেন্সবিহীন এবং প্রশিক্ষণবিহীন অদক্ষ চালক, চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোনো সড়কেই যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। এ কারণে ইচ্ছেমতো গতি উঠিয়ে চলাচল করছে যানবাহনগুলো। এটি বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া খুবই দরকার। সড়কে লাশের মিছিল বন্ধে সংশ্লিষ্টদের আরও দ্বায়িত্বশীল হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম সাহিদ বলেন, দুর্ঘটনা রোধ, যানজট নিরসনসহ সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতানতা বৃদ্ধিতে তারা কাজ করছেন।
গত বছর প্রায় ৫ হাজার ৪০০ যানবহনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর বিপেরীতে জরিমানা আদায় করা হয়েছে সোয়া ২ কোটি টাকার বেশি। তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে চালক, মালিক ও পথচারীদের দায়িত্ব রয়েছে। সবাই সচেতন হলে ট্রাফিকের শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব।
তবে সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশ দিনরাত কাজ করছে। দীর্ঘদিনের আইন না মানার অনিয়ম সহজে ঠিক হবে না। তবে আমরা আশাবাদী সবাই আইন মানবে।
জেবি