দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চিকিৎসার জন্য নিজের নামে ঢাকার একখণ্ড জমি মোটা টাকায় বিক্রি করেন মোতাহার হোসেন মুন্সি (৭৫)। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই বৃদ্ধের কোনো সন্তান না থাকায় টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দাফনে বাধা দেয় তার ভাই-ভাতিজা। তাদের বাধায় তিন দিন বাড়ির উঠানে পড়েছিল মোতাহারের মরদেহ।
বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের হস্তক্ষেপে মরদেহটি পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনাটি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের শাকোয়া মাঝিপাড়া গ্রামের।
এর আগে মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মোতাহার হোসেন মুন্সী ঢাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরে অফিস সহকারী ছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি অবসরে যান। এরপর থেকে স্ত্রী মাসুমা বেগমকে নিয়ে তিনি ধানমন্ডির কলাবাগান এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের কোনো সন্তান নেই। কিছুদিন আগে মোতাহার হোসেন অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য বড় অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হয়। তাই ঢাকায় থাকা একখণ্ড জমি দুই কোটি ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। গত এক সপ্তাহ আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকার আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার মারা যান। এর পরদিন মোতাহার হোসেনের মরদেহ দাফনের জন্য পলাশবাড়ী উপজেলার শাকোয়া মাঝিপাড়া গ্রামে আনেন তার স্ত্রী। পরে ওই মরদেহ দাফনে বাধা দেন মোতাহার হোসেনের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম মুন্সী ও তার ভাতিজা হাবিবসহ পরিবারের কয়েকজন।
এসময় তারা মাসুমা বেগমের কাছে মোতাহার আলীর কাছে থাকা জমি বিক্রির দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা কোথায় কোন ব্যাংকে আছে তা জানতে চান। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে মরদেহ নিজ বাড়ির উঠানে পড়ে থাকে। স্থানীয়রা চেষ্টা করেও দ্বন্দ্বের নিরসন করতে পারেননি।
বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে মরদেহ দাফন না হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পলাশবাড়ী থানা পুলিশ। পরে তারা বৈঠক করে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তাদের উপস্থিতিতে নিজ বাড়ির উঠানে জানাজা নামাজ শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।
মোতাহার আলীর স্ত্রী মাসুমা বেগম তার ভাই-ভাতিজাদের ৬০ লাখ টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়েছেন।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তিন দিনেও মরদেহ দাফন হয়নি বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পারিবারিকভাবে সমঝোতা হওয়ায় রাতে মোতাহার হোসেন মুন্সির দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এফএইচ