দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় চাঞ্চল্যকর উজ্জ্বল অধিকারী হত্যা মামলার প্রধান আসামি উত্তম অধিকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮। সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ প্রেস বিজ্ঞপ্তি র্যাব-৮ বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া উপজেলার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামি উত্তম অধিকারীকে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানাধীন পাখিমারা এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান র্যাব-৮।
মামলার প্রধান আসামি উত্তম অধিকারী (৩৫) মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোড় রাজপাড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডর রাজপাড়া গ্রামের অনীল অধিকারীর পুত্র। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে উজ্জ্বল অধিকারীর বসত ঘরের পশ্চিম পাশে থাকা একটি তেঁতুল গাছ হতে কিছু পাকা তেঁতুল পাড়াকে কেন্দ্র করে আসামি উত্তম অধিকারী উজ্জ্বলের বসত ঘরের সামনে উঠানে এসে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। কথা কাটাকাটির একপর্যায় আসামি উত্তম, গৌতম, সুশীল, মিল্টন, সুমা, কাগুতি অধিকারী, রবিন অধিকারী ননী গোপাল অধিকারী ও রতন অধিকারী পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাড়ীর মধ্যে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে এলোপাথাড়িভাবে কিল ঘুষি মেরে, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। আসামি উত্তম অধিকারীর হাতে থাকা কুড়াল দ্বারা ভিকটিম উজ্জল অধিকারীকে কুড়ালের অপর পাশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে। ভিকটিমের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা প্রকাশ্যে খুন জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে পাশের লোকজন উজ্জ্বলকে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
র্যাব-৮ আরও জানান, হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে নিজ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র্যাব-৮ (সিপিএসসি ক্যাম্প) গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং ছায়াতদন্ত শুরু করে। র্যাব-৮, সিপিএসসি কোম্পানি বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে উলেখিত আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। নিহত উজ্জ্বল অধিকারীর ভাই সজল অধিকারী বাদী হয়ে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের কাজ চলমান রয়েছে।
এফএইচ