দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আইনি লড়াইয়ের ছয় বছর পর ময়মনসিংহের তারাকান্দায় অসহায় পরিবারের বেদখল হওয়া জমি ঢোল পিটিয়ে উদ্ধার করে বুঝিয়ে দিয়েছে আদালত।
বুধবার (৩১ জানুয়ারি) জেলা জজ আদালের প্রতিনিধিদল পুলিশ নিয়ে জমি বুঝিয়ে দেন পরিবারগুলোকে।
আদালতের লোকজনের উপস্থিতিতেই জমি চাষ করে তাতে ধানের চারা রোপণ করা হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশাপাশি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এলাকার মানুষও।
উপজেলার বালিখাঁ ইউনিয়নের পারুলিতলা গ্রামের প্রয়াত আবদুল গফুর ও আবদুল রহিমের সন্তানদের জমি দখল করে প্রতিবেশী আবদুল খালেকের ছেলে জাকারিয়াসহ তাদের লোকজন।
১ একর ৬৫ শতক জমি ২০১৮ সালে দখল করে নেয় জাকারিয়ারা। জমিটি নিজেদের দাবি করে দখল করে নিলে আদালতে ২০১৮ সালে ২৯ মে মামলা করেন আবদুল গফুর ও আবদুর রহিমের সন্তানরা। আদালত বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৩ সালের জুনে বাদীপক্ষে জমির মালিকানার রায় ঘোষণা করে।
আদালত বিবাদীপক্ষকে জমির দখল ছেড়ে দিতে বললেও না ছাড়ায় দখল বুঝে পেতে পুনরায় আদালতে মামলা করা হয়। সেই মামলা ২২ জানুয়ারি ময়মনসিংহ জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ নয়ন চন্দ্র মোদকের আদালত দখল বুঝিয়ে দিতে তারিখ নির্ধারণ করে আদেশ দেয়।
সেই প্রেক্ষিতে বুধবার জেলা জজ আদালতের নাজির মো. মজিবুর রহমান আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করতে পুলিশ নিয়ে এলাকায় যান। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জমির চারদিকে লাল নিশান টানিয়ে ঢোল পিটিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয় জমি। জমিতে চাষ দিয়ে রোপণ করা হয় ধানের চারাও।
দীর্ঘদিন আইনি লড়াই শেষে জমি ফেরত পেয়ে খুশি আবদুল গফুরের ছেলে মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ১ একর ৬৫ শতাংশ জমি জোরপূর্বক ওরা লোকবল নিয়ে দখল করে নেয়। আমরা আইনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পেয়েছি। আমাদের ওপর যেন আর কোনো অত্যাচার নেমে না আসে প্রশাসনের কাছে সেই সহযোগিতা চাই।
আবদুর রহিমের ছেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নেয় জাকারিয়ারা। নানাভাবে আমাদের লোকজনকে অত্যাচারও করে। আমরা এসবের প্রতিবাদ না করে আইনের মাধ্যমে বিচার পেয়েছি। আজ আমরা নিজেদের জমি ফিরে পেয়ে খুশি।
গ্রামের চাঁন মিয়া বলেন, পরিবারটি অসহায় হওয়ার কারণে জোরপূর্বক জমিগুলো দখলে নিয়ে নেয় প্রভাশালীরা। তাদের অত্যাচারের ভয়ে কেউ প্রতিবাদও করতে পারেনি। কিন্তু আদালত উপযুক্ত বিচার করেছে।
দখল করে রাখা জাকারিয়া বলেন, পূর্বপুরুষের সম্পত্তি হিসেবে জমিটি আমরা দখলে নিয়েছিলাম। এখন যেহেতু আদালত আমাদের বিপক্ষে রায় দিয়েছে আমরা আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করব।
জেলা জজের নাজির মো. মজিবুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে ১ একর ৬৫ শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারকে। দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়ন হওয়ায় খুশি পরিবারটি।
জেবি