দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শহরের প্রাণকেন্দ্রের রেলক্রসিংয়ের ওপর ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের কাজ কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলেও কাজের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপদ বিভাগের দাবি ভূমি অধিগ্রহণের কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি হতে পারে। ৭৫ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের কাজের সময়সীমা ৩৮০ দিন নির্ধারণ হলেও এক-তৃতীয়াংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিভাগ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সহজ রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব কাজ শেষ করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার চূড়ান্ত করা হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। চুয়াডাঙ্গাবাসীসহ ওভারপাস নির্মিত এলাকার মানুষের জন্য চুয়াডাঙ্গা রেলগেটি ছিলো চরম ভোগান্তির জায়গা হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত।
প্রায় প্রতিদিনই চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন হয়ে গড়ে ১০-১২টি ট্রেন আপ এবং ডাউন চলাচল করে। প্রতিটি ট্রেন যদি যাতায়াত মিলে ২০ মিনিট সময় নেয়। তাহলে হিসাব করলে দেখা যায় ২৪০ থেকে ২৫০ মিনিট ট্রেন যাতায়াতের সময় নেয়। অর্থাৎ প্রতিদিন চার ঘণ্টা রেলগেট পড়ে থাকে।
এতে সহজেই বুঝা যায় যে, চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ এলাকার যানবাহন ও মানুষের চলাচলের জন্য এই ওভারপাস সড়কটি নির্মাণ হওয়া যে কতো বড় গুরুত্বপূর্ণ তা বলাই বাহুল্য। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চুয়াডাঙ্গাবাসীর মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা ভেবে জনগুরুত্বপূর্ণ এ কাজটি করার একনেকে অনুমতিসহ বাজেট প্রদান করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপদ বিভাগের সূত্র মতে, ৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলক্রসিংয়ের ওপর ওভারপাসের দৈর্ঘ্য ৪১৮.৬৯৬ মিটার। রেম্পের দৈর্ঘ্য ৩৩০ মিটার, মোট দৈর্ঘ্য ৭৪৮. ৬৯৬ মিটার, ওভারপাসের প্রস্থ ১০. ২৫০ মিটার, ১১ ক্যারিয়েজ ওয়ে ০৭.৩০ মিটার, হেডরুম ৮.৫০ মিটার, পিয়ার সংখ্যা ১২টি এবং এবার্টমেন্ট সংখ্যা ২টি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল করিম জানান, ওভার পাস নির্মাণ কাজ বিলম্ব হওয়ার কারণ হচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণ। ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় কাজটি শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে। জমির দাম বাজেটের তুলনায় বর্তমানে খুব বেশি হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে খুব দ্রুতই এর সমস্যার সমাধান হবে। বর্তমানে পিয়ার কলামের ঢালাইয়ের কাজ এবং গাডার ঢালাইয়ের কাজ চলছে। তিনি আরও জানান, চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মোড় থেকে শুরু হয়ে চুয়াডাঙ্গা ঝিনাহদহ বাসস্ট্যান্ড মসজিদ পর্যন্ত দীর্ঘ এ ওভার পাস হবে একটি দৃষ্টিনন্দন প্রকল্প।
প্রায় ৪১৯ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০.২৫ মিটার প্রস্থের ওভারপাস নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫ কোটি ১১ লাখ ৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মূল ওভারপাস তৈরি করা হবে। এছাড়া বাকি টাকা দিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ, প্রকল্প এলাকায় বৈদ্যুতিক তার স্থানান্তরসহ সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ওভারপাসে সর্বমোট ১৩টি স্প্যান থাকবে। আগামী ২০২৪ সালের ৩০ জুন নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে ঢাকার বনানীর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।
জেবি