দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

"খেলার মাঠে মেলা হবে না" প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়ে কাজ করে যাচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। কিন্তু শরীয়তপুরে শহীদ বীর শ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ জেলা স্টেডিয়াম মাঠ তছনছ করে চলছে মাস ব্যাপী বাণিজ্য মেলার আয়োজন। মনিপুরী তাঁত জামদানী ও বেনারসি ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে মেলার আয়োজন করার জন্য স্টেডিয়ামটি ভাড়া দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এই খেলার মাঠে মেলা নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমী ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে ৬ একর জমির ওপর শরীয়তপুর জেলা শহরের ধানুকা এলাকায় শহীদ বীর শ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ স্টেডিয়াম নির্মান করা হয়। ১২ হাজার আসন বিশিষ্ট ওই স্টেডিয়ামে সারা বছর জুড়ে ক্রিকেট, ফুটবল ও বিভিন্ন টুনার্মেন্ট আয়োজন করা হয়। এছাড়া জাতীয় ক্রীকেট বোর্ডের অনুর্ধ্ব ১৪, অনুর্ধ্ব ১৬ ও অর্নুধ্ব ১৮ খেলোয়াড়দের জেলা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন চলে। বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠানের জন্য গত জুনে জাতীয় ক্রিকেট বোর্ড থেকে শরীয়তপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে । বর্ষা মৌসুম, ঈদুল আজহা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ওই ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করতে পারেনি জেলা ক্রীড়া সংস্থা। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারীতে ৩২টি দল নিয়ে ৫৬টি ম্যাচের আয়োজন করার কথা ছিল। কিন্তু স্টেডিয়াম মেলার জন্য ভাড়া দেওয়ায় বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকেট ম্যাচটি এখন আয়োজন বন্ধ রাখা হয়েছে। স্টেডিমায় মেলার জন্য ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে কিছুই জানে না জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটির সদস্যরা। কোনো সভা করে ক্রীড়া সংস্থার কমিটির মতামতও নেওয়া হয়নি। ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ একক সিদ্ধান্তে মাসব্যাপী মেলা বসানোর জন্য মনিপুরী তাঁত ও জামদানী কল্যান ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে স্টেডিয়ামটি ১ মাসের জন্য ভাড়া দিয়েছেন ও মেলা বসানোর অনুমতি দিয়েছেন।
সরেজমিনে সোমবার (২২ জানুয়ারি) স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, পুরো মাঠ জুড়েই চলছে মেলার বিশেষ কর্মযজ্ঞ। মাঠের অধিকাংশ স্থানেই বিছানো হয়েছে ইট। ক্রিকেট পিচের পাশে, গোলবারের দুই পাশে ইটের ঢালাইসহ লোহা দিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা বসানো হয়েছে। মাঠের চারপাশে ছোট ছোট কক্ষ তৈরি করা হচ্ছে স্টোল বসানোর জন্য। মেলার জন্য খেলার পুরো মাঠটি তছনছ করে ফেলা হয়েছে।
মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য ওসমান গনি বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়েই মাসব্যাপী এই মেলার আয়োজন করেছি। তাছাড়াও মেলায় আনন্দ ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক এবং শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা পাশের জেলা মাদারীপুরেও এই মেলার আয়োজন করেছি।
এ ব্যাপারে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, ক্রিকেট কোচ, ফুটবল কোচের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ক্রীড়া সংস্থার একজন সদস্য বলেন, এই স্টেডিয়ামে মেলা হবে তা আমরা কেউ জানিনা। সবকিছুর আয়োজন হয়েছে পরে শুনেছি। আরো শুনেছি মেলার আয় থেকে নাকি ৪০ শতাংশ টাকা নেওয়া হবে। এছাড়াও যেটি মূল বিষয় সেটি হচ্ছে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করার কথা ছিল। কিন্তু মেলার জন্য তা বন্ধ রাখা হয়েছে।
শরীয়তপুর জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজুল ইসলাম, মিরাজ আহমেদ বলেন, আমাদের কলেজেও মাঠ রয়েছে আমরা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে জেলা মাঠেই খেলাধুলা করতে ভালো লাগে। কিন্তু এই মেলার কারণে মাঠ তো একেবারেই শেষ হয়ে গেল। কবে এই মাঠ ঠিক হবে আর আমরা সকলে আবার খেলতে পারব জানিনা। অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ মেলা মাদারীপুরে হয়েছে তখন এ অঞ্চলের মানুষ কষ্ট করে মাদারীপুরে মেলায় গিয়েছে। এ জেলা স্টেডিয়াম মাঠ ছাড়া এ মেলার জন্য তেমন কোনো বড় মাঠ নেই। আর যে টুর্নামেন্টগুলো হওয়ার কথা ছিল তা মেলার পরেই হবে। তবে মেলার জন্য যে ক্ষয়-ক্ষতি মাঠের হবে তা সংস্কার করে দেবেন আয়োজকরা। এমন শর্তেই মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এফএইচ