দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যশোরে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। শীতের তীব্রতা ও বৃষ্টিতে ভোগান্তি বাড়িয়েছে চরমে। বৃহস্পতিবার ভোরে শুরু হয় বৃষ্টিপাত।
কয়েক ঘণ্টা পর বৃষ্টি থামলেও ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। শীতের মধ্যে বৃষ্টিপাতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে নিম্নআয়ের মানুষ। দুপুর পর্যন্ত দেখা মেলেনি সূর্যের। পরে সূর্য উঁকি দিলেও বেশি সময় স্থায়ী হয়নি।
পড়ন্ত বিকেলে আবারও হিমেল বাতাসে কনকনে শীতে দুর্ভোগ নেমে আসে। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অধিদপ্তারের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার যশোরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শীতের ঠাণ্ডা বাতাস কাঁপিয়ে তুলছে জেলার ছিন্নমূল মানুষগুলোকে।
পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে পথে-ঘাটে থাকা এই মানুষগুলো দুর্বিষহ দিন পার করছেন। যশোরে রেলস্টেশন ও ফুটপথগুলোতে ছিন্নমূল মানুষকে কম্বল মুড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড়, হাত-পায়ের মোজা, টুপি, মাফলার, জ্যাকেটের চাহিদা বেড়েছে।
এনজিও কর্মকর্তা শামসুর রহমান বলেন, একেতো তীব্র শীত, তার ওপর আবার বৃষ্টি। দুয়ে মিলে স্বাভাবিক কাজকর্ম যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে আনা দুর্ভোগ, অফিস যাতায়াতে দুর্ভোগ।
শহরের মুজিব সড়কে ইজিবাইক চালক নজরুল ইসলাম বলেন, ভোরে শীতের সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। তার সঙ্গে বাতাস তো আছে। বৃষ্টি ও শীতের কারণে ইজিবাইক চালাতে কষ্ট হচ্ছে।
মিজানুর রহমান নামে এক পথচারী বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে। এর মধ্যে বৃষ্টিতে আজ শীতের তীব্রতা একটু বেশি। হাত পা শীতল হয়ে গেছে। গরম কাপড়ের সঙ্গে হাত মোজা, পায়ের মোজা পড়লেও স্বস্তি মিলছে না।
আক্কাস আলী নামে এক রিকশাচালক বলেন, তিনটি শার্ট, দুটি প্যান্ট, মোজা পড়ছি। সেই সঙ্গে মাফলার ও মাথায় টুপি দিয়ে কান মুখ ঢেকে রেখেছি। এরপরও শীতে কাবু হয়ে যাচ্ছি। একটি ট্রিপ দিলে হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। পেটের দায়ে এত শীতের মধ্যেও বের হতে হয়েছে।
এদিকে, শীতের প্রকোপে রোগীর চাপ বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। বেশি রোগাক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। যশোর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ও যশোর শিশু হাসপাতালে দ্বিগুণের বেশি রোগী সামলাতে হিমমিশ খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে অসুস্থ শিশুদের চাপও বেড়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ভর্তি রোগীর ৭০-৮০ ভাগই শীতজনিত কারণে অসুস্থ। তাদের বেশির ভাগই শিশু ও বৃদ্ধ। আবার শীতজনিত কারণে মারা গেলেও পরিসংখ্যান ওইভাবে করা সম্ভব হয় না।
কারণ, শীতের কারণেই রোগীর অ্যাজমা সমস্যা বাড়ে, কাশি বাড়ে, জ্বর থেকে নিউমোনিয়া হয়। কিন্তু মারা গেলে এসব রোগই শনাক্ত করা হয়। তখন তা শীতজনিত কারণে বলা সম্ভব হয় না।’
এই বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রিজিবুল ইসলাম জানান, জেলার অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য ৬১ হাজার কম্বল বরাদ্দ ছিল তার মধ্যে ৫৫ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়াও আরও ৭৫ হাজার কম্বলের চাহিদার পাঠানো হয়েছে। কসরকারি কম্বল ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কম্বল বিতরণ করছে। তবে সেটা অনেক কম। তাই সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনকে শীতার্ত মানুষের মধ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জেবি