দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুরে নির্বাচন পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী হামলায় আহত সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠক নূর ই আলম চঞ্চল হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন।
রোববার (৭ জানুয়ারি) শেরপুর-১ (সদর উপজেলা) আসনে কামারিয়া ইউনিয়নের সূর্যদী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে যুবরাজ গংদের হাতে প্রহৃত হন তিনি।
জানা যায়, স্থানীয়দের কাছে সূর্যদী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখে দেখে ভোট নেওয়া ও সিল মারার খবর পেয়ে দুই সহকর্মীসহ ওই কেন্দ্রে যান চঞ্চল। তাকে ভোটকেন্দ্রের ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারণ করতে দেখে নৌকা প্রতীকের এজেন্ট যুবরাজের নেতৃত্বে আক্রমণ চালিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় যুবরাজ চঞ্চলের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে। খবর পেয়ে অন্যান্য সাংবাদিকরা ওই কেন্দ্রে ছুটে যান। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের উপরও চড়াও হয়। হামলার ঘটনাটি দেখেও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বিষয়টি না দেখার ভান করে কৌশলে পাশ কাটিয়ে যান।
পরে আহত চঞ্চলকে সহকর্মীরা উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্ত রাতেই তার অবস্থার অবনতি হলে ৮ জানুয়ারি সকালে শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আরএমও ডা. খায়রুল কবীর সুমন বলেন, তার বমি হয়েছে এবং বুকে চাপ আছে।
সিটি স্কেনসহ বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করা যাবে। আমরা আপাতত তাকে অবজারবেশনে রেখে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।
এদিকে এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে শেরপুরের সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা। এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে গতরাতে শেরপুর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন আমাদের আইনের জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় অবিলম্বে দায়ীদের গ্রেপ্তার অন্যথায় আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে সিনিয়র সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এ সময় তারা সন্ত্রাসী যুবরাজ ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে তিনি নিজেই বাদী হয়ে ৮ জনকে স্বনামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানিয়েছেন, বাদীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আসামিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
জেবি