দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিরাজগঞ্জের বেলকুচির উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী ও তার দলবল কর্তৃক পত্রিকার এজেন্ট দৌলত মণ্ডল ও ছেলে মোমিন মণ্ডলকে মারধরের ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে।
নানা নাটকীয়তার পর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে বেলকুচি থানায় মামলাটি রজু করা হয়। এর আগে সকালে একই ঘটনায় মামলা না নিয়ে কৌশলে শুধু জিডি এন্ট্রি করেছেন ওসি।
অপরাধীদের প্রতি বেলকুচি থানার ওসি আনিছুর রহমানের স্বজনপ্রীতির বিষয় টের পেয়ে পুলিশ সুপারকে জানান গণমাধ্যমকর্মীরা। অতপর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে অবশেষে এ বিষয়ে থানায় মামলা নেওয়া হয়। দৌলতকে বাদ রেখে ছেলে মোমিন বাদী হয়ে মামলা করেন। এর আগে সকালে দৌলত স্বশরীরে এজাহার দিতে গেলে কৌশলে তা জিডি আকারে এন্ট্রি করেন ওসি।
এরপর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে বিশেষ নিরাপত্তায় বাবা-ছেলেকে দ্বিতীয় দফা থানায় ডেকে নেওয়া হয়। দৌলত মণ্ডল বাদী হতে চাইলেও আইনগত জটিলতায় ওসির পরামর্শে শেষ পর্যন্ত বাদী হন মোমিন।
মামলা হলেও বেলকুচি উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আলীসহ অপরাধীরা অধরা। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বেলকুচির সমেশপুর, চালা, চরচালা, জিধুরী, তামাই, ভাঙ্গাবাড়ি, এনায়েতপুর, বেতিল ও খামারগ্রামে ঈগল প্রতীকের দুই ডজন সমর্থকদের ওপর মারপিট ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
মামলার এজাহারে জানা যায়, দৌলত মণ্ডল রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না হলেও তার বড় ছেলে কনফেকশনারী ব্যবসায়ী মোমিন মণ্ডল ও ছোট ছেলে বেলকুচি পৌরসভার অফিস সহকারী নাবিন মণ্ডল সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে ঈগল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকমন্ত্রী লতিফ বিশ্বাসের সমর্থক ছিলেন।
নির্বাচনে বিজয়ী হন নৌকার প্রার্থী আব্দুল মমিন মণ্ডল এমপি। জয়-পরাজয়ের পরদিন সোমবার দৌলত মণ্ডলের ছোট ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী ও তার দলবল।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বেলকুচি আদালত পাড়ায় পত্রিকা বিক্রির সময় তার বাবা দৌলত মণ্ডলকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবার হুমকি-ধমকি দেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী। এরপর চালার কুদ্দুর কোয়ার্টারে ভাড়ার বাড়িতে গিয়ে দৌলত মণ্ডল ও বড় ছেলে মোমিন মণ্ডলকে পরিবার ও প্রতিবেশীর সামনেই মারধর করেন ইউসুফ ও তার লোকজন।
এদিকে, মঙ্গলবার সকালে বেতিল ও খামারগ্রামে ঈগল সমর্থকদের ধাওয়া দিয়েছে নৌকার সমর্থকরা। বেতিল গ্রামের বিমল দাসের বাড়ি ভাঙচুর, কামারপাড়া বুদ্দিন সরকারের দোকান খালে ফেলে দেওয়া হয়। ওই দুগ্রামের ঈগল সমর্থকরা ভয়ে পালিয়ে রয়েছেন।
দৌলত মণ্ডল বলেন, এর আগে নৌকার প্রার্থীর সমর্থক মণ্ডল গ্রুপের জিএম প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম মণ্ডল ও সাবেক শ্রমিক নেতা মোতালেব আমার দুছেলেকে মারধর করেন। ওই দুটি ঘটনায় মামলা করলেও বেলকুচির সাবেক ওসি গোলাম মোস্তফা ও খায়রুল বাশার আসামিদের সঙ্গে যোগসাজস করে দুটি মামলাই নষ্ট করে দেন। প্রকৌশলী আমিনুলকে একটি মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
মোতালেবসহ সকল আসামিকে অব্যাহতি দেয় পুলিশ। আজ সকালে আমি ও আমার বড় ছেলেকে মারধর করেন নৌকার সমর্থক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান। মামলা না নিয়ে ওসি জিডি করেন। পরে সাংবাদিকদের কারণে মামলা নেওয়া হয়। আশঙ্কা রয়েছে প্রকৌশলী আমিনুল ও শ্রমিক নেতা মোতালেবের মতো উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ ওসির তদন্তে বাদ না পড়েন।
মেয়র সাজ্জাদুল হক রেজা বলেন, বেলকুচিতে নির্বাচনের পর দৌলত মণ্ডল ও তার ছেলে মোমিন ও নাবিনসহ ঈগল সমর্থকদের ওপর অত্যাচার চলছে। বেলকুচির সাবেক উপজেলা চেয়াারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, বেলকুচির ওসি বর্তমান পেক্ষাপট সামাল দিতে পারছেন না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেগম আশানুর বিশ্বাস বলেন, বেলকুচির ওসি আনিসুর রহমান শুরু থেকেই বিতর্কিত আচরণ করছেন। সুবর্ণসাড়া গ্রামে সম্প্রতি বোমা বিস্ফোরণে সর্বহারা ও চরমপন্থী সদস্য কুষ্টিায়ার ফজলু খুনের রহস্য উন্মোচনতো দূরের কথা গত ২২ দিনে ঘটনার মূল আসামী সাবেক শ্রমিক নেতা মোতালেবকে ধরতে পারেনি পুলিশ।
ঈগল প্রতীকের প্রার্থী সাবেকমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, বেলকুচির ওসি আনিছুরের কারণে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বেড়েছে।
বেলকুচির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, বাদীর লিখিত এজাহার অনুযায়ী মামলা হয়েছে। এর আগে তার বাবার জিডিও এন্ট্রিও করা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার আসামি মোতালেব সরকারকে খুঁজছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মো. আরিফুর রহমান মণ্ডল বলেন, দৌলত মণ্ডল ও তার ছেলে মোমিন মণ্ডলকে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে থানার পাশাপাশি বেলকুচির সার্কেল এএসপি ও ডিবি পুলিশকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নৌকার প্রার্থী এমপি মমিন মণ্ডলের সমর্থক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী বলেন, দৌলত মণ্ডলের ছেলে মোমিন মণ্ডল ইয়ারা সেবনকারী ও ছোট ছেলে নাবিন মণ্ডল সন্ত্রাসী। ভোটের দিন তারা আমার ছেলেকে মারধর করেছে। সেজন্য দৌলত মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে পুলিশের সামনেই ছেলেদের নিয়ে এলাকা থেকে অন্যত্র চলে যেতে বলেছি। মামলার বিষয় অবগত নই।
জেবি