দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরা জেলার চারটি নির্বাচনি এলাকার প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ ভোটার রোববার (৭ জানুয়ারি) তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনাজোটের বর্জনের মুখে জেলার ৬০২টি ভোট কেন্দ্রে ১০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ২২ জন এবং ৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৩০জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের মধ্যে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজে প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এবং অপর একজনকে দলের পক্ষ থেকে প্রেসবিজ্ঞপ্তি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলায় মোট ভোটার ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪জন। এর মধ্যে নারী ভোটার আট লাখ ৬৯ হাজার ২২৮ জন, পুরুষ ভোটার আট লাখ ৭৬ হাজার ৯৮৪ জন এবং ১২ জন হিজরা ভোটার রয়েছেন।
জেলায় এবার মোট ভোটকেন্দ্র ৬০২টি। এর মধ্যে ভোটকক্ষ থাকবে তিন হাজার ৭১৮টি। ভোট কক্ষের মধ্যে ১৯৩টি অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, তালা-কলারোয়া উপজেলার তিনটি থানার ২৪টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-১ নির্বাচনি এলাকায় এবার মোট ভোটার ৪ লাখ ৭২ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৫৪ এবং হিজরা ভোটার রয়েছেন দুজন।
এই নির্বাচনি এলাকায় মোট ভোটকেন্দ্র ১৬৮টি। ৫০টি অস্থায়ী ভোটকক্ষসহ মোট ভোটকক্ষ ৯৮৯টি। সাতক্ষীরা-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী প্রার্থী রয়েছেন ১০জন।
প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ স্বপন, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গলের প্রার্থী সৈয়দ দিদার বখত, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত হাতুড়ি প্রতীকের প্রার্থী মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকের প্রার্থী ইয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ছড়ি প্রতীকের প্রার্থী শেখ মো. আলমগীর, তুণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ প্রতীকের প্রার্থী সুমি, স্বতন্ত্র দোলনা প্রতীকের এসএম মুজিবুর রহমান ওরফে সরদার মুজিব, স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী শেখ নুরুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান।
প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র কাচি প্রতীকের শেখ মুজিবুর রহমান পত্রিকায় প্রেসবিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবং মুস্তফা লুৎফুল্লাহর পক্ষে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি প্রেসবিজ্ঞপ্তি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে এবার মোট ভোটার ৪ লাখ ৬০৮জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৯ হাজার ২১৭জন, নারী দুই লাখ ১ হাজার ৩৮৮ জন এবং হিজরা ভোটার রয়েছেন তিনজন।
সদরে এবার মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৮টি। এর মধ্যে ১৫টি অস্থায়ী ভোট কক্ষসহ মোট ৮২৬টি ভোট কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন ৭জন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গলের প্রার্থী মো. আশরাফুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপিলস পার্টির (এনপিপি) আম প্রতীকের প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) নোঙ্গর প্রতীকের প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান বুলু, তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ প্রতীকের প্রার্থী মোস্তফা ফারহান মেহেদী, স্বতন্ত্র কাচি প্রতীকের এনছান বাহার বুলবুল, স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এবং স্বতন্ত্র ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. আফসার আলী।
প্রার্থীদের মধ্যে কাচি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এনছান বাহার বুলবুল লাঙ্গলের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচার অভিযানে অংশ নেন।
আশাশুনি উপজেলার ১১৪টি ইউনিয়ন, দেবহাটা উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও কালিগঞ্জ উপজেলার চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৩ আসনে এবার মোট ভোটার ৪ লাখ ৩১ হাজার ৩৮০ জন।
এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ১৮ হাজার ২৪৬ জন, নারী দুই লাখ ১৩ হাজার ১৩১জন এবং তিনজন হিজরা ভোটার রয়েছেন। এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৫৪টি।
এর মধ্যে ৭৭টি অস্থায়ী ভোট কক্ষসহ মোট ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে ৯৩৫টি। সাতক্ষীরা-৩ নির্বাচনি এলাকায় এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন প্রার্থী।
প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আ. ফ. ম. রুহুল হক, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গলের প্রার্থী মো. আলিফ হোসেন, ন্যাশনাল পিপিলস পার্টি (এনপিপি) আম প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুল হামিদ, জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকের প্রার্থী মো. মঞ্জুর হোসেন, তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ প্রতীকের রুবেল হোসেন এবং বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল) এর চাকা প্রতীকের প্রার্থী শেখ তরিকুল ইসলাম।
শ্যামনগর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, কালিগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়ন এবং নবগঠিত একটি পৌরসভা নিয়ে সাতক্ষীরা-৪ নির্বাচনি এলাকা গঠিত। এই নির্বাচনি এলাকার মোট ভোটার চার লাখ ৪২ হাজার ১৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৩৪ জন, মহিলা ভোটার দুই লাখ ১৮ হাজার ৭৫৫ জন এবং হিজরা রয়েছেন চারজন।
এই নির্বাচনি এলাকায় ভোটকেন্দ্র ১৪২টি। এর মধ্যে ৫১টি অস্থায়ী কক্ষসহ মোট ভোটকক্ষ ৯৭৮টি।
সাতক্ষীরা-৪ নির্বাচনি এলাকায় এবার মোট প্রার্থী সাতজন। প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের এসএম আতাউল হক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) নোঙ্গর প্রতীকের প্রার্থী এইচএম গোলাম রেজা, তৃণমূল বিএনপির সোনালী আশ প্রতীকের আসলাম আল মেহেদী, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. মাহবুবর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকের মো. শফিকুল ইসলাম, ন্যাশনাল পিপিলস পার্টির (এনপিপি) আম প্রতীকের প্রার্থী শেখ ইকরামুল এবং স্বতন্ত্র কাচি প্রতীকের মো. মিজানুর রহমান।
জেবি