দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় খাদিজা খাতুন (২৮) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, তার স্বামী তাকে নির্যাতন করে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী আলম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোরে আলমডাঙ্গা শহরের কলেজপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূ খাদিজা খাতুন উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কৃষি ক্লাব পাড়ার ভিকু মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী আলম হোসেন (৩২) একই উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের মোনাকষা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, এক বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেন খাদিজা ও আলম। এটা দুজনেরই তৃতীয় বিয়ে। বিয়ের পর খাদিজা তার স্বামীর সঙ্গে পৌর এলাকার কলেজপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে খাদিজার স্বামী তাকে মারধর করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঘরের জানালার গ্রিলে ঝুঁলিয়ে রাখে। বুধবার ভোরে প্রতিবেশীদের জানায় তার স্ত্রী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তারপর তিনি নিজেই থানায় উপস্থিত হয়ে স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনাটি পুলিশকে জানায়।
নিহত খাদিজার ভাই আব্দুস সামাদ অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও আলম ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের জন্য তার বোনকে নির্যাতন করেছিল। এমন ঘটনার পর গত দুই মাস ধরে আলমডাঙ্গা কলেজপাড়ায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে দুজনে বসবাস করত। এবার তার বোনকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।
নিহতের মা আশুরা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে দুই মাসের অন্তঃসত্তা ছিল। প্রথমপক্ষের মেয়ের বয়স যখন পাঁচ মাস তখন ডিভোর্স হয়। এক বছর আগে আলমের সঙ্গে বিবাহ হয় খাদিজার। বিয়ের পর থেকে ছোটখাটো বিষয়ে মেয়েকে মারধর করতো স্বামী আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা। আজ রাতে তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে তারা। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ গনি মিয়া বলেন, বুধবার সকালে আলম থানায় এসে আমাদেরকে জানায় তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে খাদিজার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। তবে যেহেতু একটা অভিযোগ উঠেছে, এই কারণে নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। ময়নাতদন্তসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেবি