দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সীমান্ত পেরিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসা বিদেশি অস্ত্রের একটি চালানসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ওই চালানে ছিল একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি।
বুধবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে মোসা. রুমা বেগম নামে ওই নারীকে কয়লাবাড়ির বিজিবি ভেহিক্যাল স্ক্যানার চেকপোস্ট এলাকায় সিএনজি তল্লাশি করে গ্রেপ্তার করে ৫৯ বিজিবি’র সদস্যরা।
একই রাতে চকপাড়া সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিদের ফেলে যাওয়া একটি বস্তা তল্লাশি করে ছয়টি বিদেশি পিস্তল, ১২টি ম্যাগাজিন, ২৩৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং ৫১ রাউন্ড মেশিনগানের গুলি উদ্ধার করে। যা এ যাবতকালে ৫৯ বিজিবির সবচেয়ে বড় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান।
এর আগে ১৫ নভেম্বর সীমান্ত পেরিয়ে শিবগঞ্জ হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঢোকার সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে বিজিবি-৫৯। ওই চালানে ছিল একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৩৬টি গুলি।
মাহবুব নামের ওই অস্ত্র ব্যবসায়ীকে শিবগঞ্জ উপজেলার তেলকুপি সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এভাবে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র। এর কিছু ধরা পড়ছে। আর বড় অংশই হাতবদল হয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
বিজিবি বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপার থেকে অস্ত্র এনে এপারের অস্ত্র কারবারিদের হাতে তুলে দেন। অস্ত্র কারবারিদের হাত ঘুরে সেসব অস্ত্র পৌঁছে যায় রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। কারা এসব অস্ত্র ব্যবহার করে বা গন্তব্য কোথায় ছিল সে প্রশ্নে, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বিজিবি বলছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে অস্ত্রের চালান আসছে।
জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি এবং নাশকতার কাজেও এসব অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সীমান্ত পেরিয়ে আনা অস্ত্র উদ্ধারে প্রতিটি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট বা বিওপিতে বিশেষ টিম প্রস্তুত করা হয়েছে।
বিজিবির দেওয়া তথ্য মতে, গত ১১ মাসে সীমান্ত এলাকায় ২০টি পিস্তল জব্দ করা হয়। সঙ্গে ছিল ৩৭৩ রাউন্ড গুলি, ৩২টি ম্যাগাজিন ও ৫১টি মেশিনগানের গুলি। শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ, একই এলাকার আজমতপুর, চকপাড়া, তেলকুপি, গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ও ভোলাহাটের বিলভাতিয়া সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র আসছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। আর এসব অস্ত্র বাহকদের বেশিরভাগই স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তাদের দেওয়া তথ্য মতে এসব অস্ত্রের গন্তব্য ছিল ঢাকা ও দেশের বিভাগীয় শহর। তবে কারা এসব অস্ত্রের ক্রেতা তা নিশ্চিত নয় বিজিবি। তবে ধারণা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে অস্ত্রের চালান আনছে একটি বিশেষ মহল।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, শিবগঞ্জ সীমান্ত দিয়েই প্রধানত ভারত থেকে অবৈধ অস্ত্র আসে। পদ্মা নদীর চরে একাধিক ইউনিয়ন আছে। তার অপর দিকে ভারত। ভারতের একাধিক অস্ত্র ব্যবসায়ী আছে যারা বাংলাদেশে অস্ত্র পাঠায়। ভারতের বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বের শহর মুঙ্গেরে। মুঙ্গেরের বিভিন্ন গ্রামে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। ওই সব এলাকা বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা।
বিজিবির ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অস্ত্র আসছে। এজন্য বিজিবি সদর দপ্তর থেকে সীমান্তে কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ পাওয়ার পর নিয়মিত টহল টিমের বাইরে অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ টিম প্রস্তুত রয়েছে প্রতিটি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট বা বিওপিতে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত চৌকি বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
গত ১১ মাসে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৩৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় আটক করা হয়েছে ৯ জনকে। বুধবার রাতে ছয়টি বিদেশি পিস্তল, ১২টি ম্যাগাজিন, ২৩৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং ৫১ রাউন্ড মেশিনগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। যা এ যাবতকালে ৫৯ বিজিবির সবচেয়ে বড় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান।
এ প্রসঙ্গে রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খোন্দকার শফিকুজ্জামান পিএসসি বলেন, অস্ত্র গোলাবারুদ, বিস্ফোরক চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের লক্ষে বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। ১১ মাসে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৩৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের ঘটনা স্বাভাবিক নয়। আমাদের কাছে খবর ছিল, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে একটি বিশেষ মহল অস্ত্রের চালান আনছিল। আমরা তাদের ধরতে সক্ষম হয়েছি। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি করার জন্য সীমান্ত ব্যবহার হতে দেব না।
জেবি