দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে ট্রেনে আগুনে পুড়ে নিহত নাদিরা আক্তার পপি ও তার শিশু সন্তান ইয়াসিন রহমান পিয়াসের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার সদর উপজেলার বরুনা গ্রামে। একই ঘটনায় নিহত অপর অন্যজন শহরের পৌর এলাকার নাগড়ার বাসিন্দা পৌর বিএনপির সদস্য রশিদ ঢালী। উভয়ের বাড়িতে চলছে মাতম। নিহতের খবরে স্বজনসহ এলাকাবাসী তাদের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে ভিড় করেন। এ সময় স্বজনসহ সাধারণ মানুষ ঘটনার নিন্দা ও দোষীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
নাদিরা আক্তার পপির (৩০) স্বামীর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া বরুনা গ্রামে। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) ভোরে ঢাকার তেজগাঁওয়ে মোহনগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান নাদিরা ও তার শিশু সন্তান ইয়াসিন রহমান পিয়াস।
স্থানীয়রা জানান, নাদিরা তার ব্যবসায়ী স্বামী মিজানুর রহমানের সঙ্গে রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় থাকতেন। সোমবার রাতে দুই সন্তানকে নিয়ে নাদিরা তার ভাই হাবিবুর রহমানের সঙ্গে মোহনগঞ্জ ট্রেনে চড়ে ঢাকার বাসায় ফিরছিলেন। ট্রেনে আগুনের ঘটনার সময় হাবিবুর রহমান ভাগনে ফাহিমকে নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে জীবন বাঁচাতে পারলেও ট্রেনে আটক পড়ে আগুনে দগ্ধ হয়ে শিশু সন্তানসহ মারা যান নাদিরা। সকালে নাদিরার মৃত্যু সংবাদ বরুনা গ্রামে এসে পৌঁছলে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
নাদিরার বোন লিপি আক্তার ও এলাকাবাসী জানান, ট্রেনে যারা আগুন দিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
নাদিরার দেবর আব্দুল কাদির মিলন বলেন, স্কুল বন্ধে ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল নাদিরাসহ তার দুই সন্তান। রাতে ওদেরকে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে আসি। ঢাকার বাসায় যাচ্ছিল। পরে শুনি ট্রেনে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। এখনও লাশ আসেনি। জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়নি। সবাইকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাদিরার বাবা মো. ফজলুল হক বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে শেষ দুইটা কথাও বলতে পারছি না। আমরার বুকে যেমন আগুন দিছে হেরার বুকেও তেমন যেন আগুন লাগে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার চাই।
এদিকে নিহত বিএনপি নেতা মো. রশিদ ঢালীর ছেলে মো. মামুন ঢালী বলেন, আমার বাবা ব্যবসার কাজে ঢাকা গেছিল ট্রেনে। এখন জীবনের লাইগ্যা গেছেগা। আর আইবো না।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদিরার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, নিহতের স্বজনদের সঙ্গে ঘটনার পর থেকেই আমরা যোগাযোগ রাখছি। মরদেহ এলাকায় আসার পর সেখানে যাব। নিহতদের পরিবারদের প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
জেবি