দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বগুড়ার শিবগঞ্জে অসুস্থ নাতনিকে দেখে ফেরার পথে জামাইয়ের মারধর ও ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধ শ্বশুর আব্দুস সাত্তার (৭০) নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত সাত্তার উপজেলার সেকেন্দারবাদ গ্রামের মৃত শরাফত প্রামানিকের ছেলে ও পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর উপজেলার শব্দলদিঘী গ্রামে ৮ বছর বয়সী অসুস্থ নাতনি স্নিগ্ধাকে (৮) দেখতে যান সাত্তার। সেখান থেকে ফেরার পথে মেয়ে জামাই মতিয়ার রহমান পারিবারিক কলহের জেরে তাকে মারধরের পর মাথায় ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা টের পেয়ে সাত্তারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতলটির আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান।
এদিকে এই ঘটনায় গত ৮ ডিসেম্বর তার ছেলে মিজানুর রহমান বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাত্তারের মেয়ের জামাই মতিয়ারসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে৷
নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় ১৮ বছর আগে বড় বোন সান্তনা খাতুনের সঙ্গে পাশের শব্দলদিঘী গ্রামের মতিয়ারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তিনি তুচ্ছ ঘটনায় সান্তনাকে মারধর করে আসছিল। মতিয়ারের অভিযোগ তাকে জামাই হিসেবে ঠিকমতো দাওয়াত ও সমাদর করা হত না। এজন্য তিনি বোনকে আমাদের বাড়িতেও আসতে দিতেন না। প্রায় বছরখানেক আগেও মতিয়ার আমার বাবাকে মারধর করেছিলেন। বোনের সংসারের খাতিরে বিষয়টি আমরা মেনে নেই। গত ৬ ডিসেম্বর অসুস্থ ভাগনি স্নিগ্ধাকে দেখে আসার পথে মতিয়ার তার আত্মীয়দের নিয়ে বাবাকে মারধরের পর মাথায় ছুরিকাঘাত করে।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। বৃদ্ধ কৃষক সাত্তার বেশ কয়েকদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে মামলার পরও ঘটনা জানাজানির হলে আসামিরা পালিয়েছেন। তবে তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
জেবি