দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নড়াইলে শিশু আরাপ হত্যা মামলায় মা মৌসুমি খানমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গত ২৭ নভেম্বর নড়াইল সদর উপজেলার লস্করপুর গ্রামের মো. মিলন মোল্যা ও মোসা. মৌসুমী খানম দম্পতির এক মাস ২৭ দিন বয়সের শিশু সন্তান আরাফ মোল্যার লাশ উদ্ধার হয়। লাশটি বসতবাড়ির উত্তর পাশে আলিম মোল্যার মেহগনি বাগানের মধ্যে ছোট পুকুরের পানিতে পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে নিহতের বাবা মো. মিলন মোল্যা বাদী হয়ে গত ২৯ নভেম্বর নড়াইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ সুপার মো. মেহেদী হাসান বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ শিশুটির মা মোসা. মৌসুমী খানমকে (২৪) গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে সে। মোসা. মৌসুমী খানম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানায়, শিশু আরাপ জন্মের পর থেকেই তার শ্বাসনালী ছোট হওয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হতো এবং দুধ খেতে গেলে বুকে দুধ বাঁধতো। মাঝেমাঝে বমিও করে দিত। বাচ্চাটির অনেক ঠান্ডাজনিত সমস্যাও ছিল। যে কারণে তাকে সবসময় চিকিৎসার মধ্যে রাখা হতো। ঘটনার দিন মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার সময় আরাপের মুখ হা হয়ে যায়। শিশুটি চোখ বড় বড় করে তাকায়। কিছুক্ষণ পর তার শরীর নীল হয়ে যায়। তখন আরাপের মা মৌসুমী ভেবেছিল তার বুকে মনে হয় দুধ বাঁধছে। এরপর তিনি তার বাচ্চাকে সোজা করে ঝাকাঝাকি করতে থাকেন। তার মাথায় ফু দেন। কিন্তু শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
পুলিশ আরও জানায়, তখন তিনি শিশুটির পালস চেক করে দেখেন যে শিশুটি মারা গেছে। শিশু আরাপের মা মোসা. মৌসুমী খানম কী করবে বুঝে উঠতে না পেরে ভয় পেয়ে যায়। তারপর তিনি তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এবং স্বামীর ভয়ে তার মৃত শিশু সন্তানকে রাতের আঁধারে বাড়ির পাশের আলিম মোল্যার মেহগনি বাগানের মধ্যে পুকুরের ভেতর ফেলে রেখে আসেন। এরপর বাড়িতে এসে সবাইকে বলেন, তার ছেলেকে পাওয়া যাচ্ছে না এবং ঘটনাটি অন্যদিকে নেওয়ার জন্য গল্প সাজান।
জেবি/এইউ