দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নড়াইল সদর উপজেলায় আরিয়ান মোল্যা (১৭) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। সে নড়াইল পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। আরিয়ান মোল্যা পৌরসভার মহিষখোলা গ্রামের মোহাম্মদ মোল্যার ছেলে।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার কাড়ার বিলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিয়ানকে নড়াইল সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে পাঠানো হয়েছে।
আরিয়ান অভিযোগ করে জানান, মঙ্গলবার দুপুরের পর তার দাদি ডেকে বলেন আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম পলাশ বাড়িতে আসছেন। তিনি কথা বলবেন। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তুষার শেখ ও রয়েল শেখ বাড়ির মধ্যে থেকে টেনে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেয়। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে কাড়ার বিলের মধ্যে ঘেরের পাড়ে নিয়ে যায় তারা। সেখানে তুষার, রয়েল, এলান তাকে কুপিয়ে জখম করে ফেলে যায়। পরে সেখান থেকে আহত অবস্থায় ভ্যানে করে একা সদর হাসপাতালে পৌঁছে আরিয়ান।
আরিয়ানের পরিবার জানায়, স্কুলছাত্র আরিয়ানের সঙ্গে শিবশংকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার স্কুলপড়ুয়া মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আরিয়ানের পারিবারিক অবস্থা তার প্রেমিকার পারিবারিক অবস্থার থেকে খারাপ। অসম বয়সের প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মেয়ের পরিবার। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। এর সূত্র ধরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ আরিয়ানের পরিবার।
তবে অপর একটি সূত্র জানায়, আরিয়ানের সঙ্গে ওই ছাত্রীর কোনো সম্পর্ক ছিল না। বিভিন্ন সময় আরিয়ান ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতো। তাকে একাধিকবার বিরত থাকার জন্য বলা হলেও সে শোনেনি।
নড়াইল পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল হক বলেন, কোনো ধরনের অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে পারতো। স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা নিয়ে এটার সমাধান করা যেত। আমার ওয়ার্ড থেকে এভাবে দিনদুপুরে একটা ছেলেকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া, এটা কোনো সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না। এ ঘটনার সঙ্গে যারাই সম্পৃক্ত থাকুক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
আউড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম পলাশ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই ছেলের পরিবার আমার চেম্বারে এসে ওই ছাত্রীর পরবিারের সঙ্গে কথা বলার জন্য যেতে বলে। আমি না গিয়ে ওদের কথা বলতে বলেছি। না যাওয়ার কারণে হয়তো আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্তু থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
জেবি