দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বছরের শুরুতেই শিশুদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। অথচ সেই পাঠ্যবই শিশুদের হাতে পৌঁছার আগেই এক শ্রেণির অসাধু শিক্ষক-কর্মচারীর কারণে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।
শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া সাউথ করুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) সকালে ভ্যানে করে নতুন বই বিক্রির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে।
শিশুদের হাতে পৌঁছার আগে কালোবাজারে বই বিক্রির এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এর বিচার চেয়েছেন। তবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরা ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ভ্যানচালক স্কুলের নতুন বই ভ্যানের ভেতরে তুলছেন। স্কুলের ভেতর থেকে একজন বই জানালা দিয়ে বের করে দিচ্ছেন। স্থানীয়রা উপস্থিত হয়ে ভ্যানচালককে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, শিক্ষক সোলাইমানের নির্দেশে বইগুলো ভ্যানে তোলা হচ্ছে। তখন স্থানীয়রা বইগুলোতে ২০২৩ সালের নতুন অনেক বই দেখতে পান। এ ঘটনার ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে সুলাইমান মাস্টার অর্থের বিনিময়ে অনেকের পোস্ট ডিলিট করান।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদির সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত মাস্টারের সঙ্গে আমি ফোনে কথা বলেছি। তিনি বিষয়টা জানেন না বলে দাবি করেছেন।
বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে দাবি করে কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ খান নুন বলেন, বই আমরা উৎসবের সঙ্গে শিশুদের হাতে তুলে দেই। শিশুদের এই বই বাইরে বিক্রি হচ্ছে। এটা অন্যায়।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রহুল আমিন তালুকদার বলেন, বিষয়টি জানার পরেই সাউথ করুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান বলেন, নতুন বইতো দূরের কথা পুরাতন বইও বিক্রি করার সুযোগ নেই। বই বেশি হলে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সুলাইমান ও নৈশপ্রহরী মো. দুলালের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের মোবাইল ফোনে বারবার ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
জেবি