দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় একই পরিবারের ছয়জনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের গাংচিল বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের ২৫০শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দেলোয়ার নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
হামলায় আহতরা হলেন, গাংচিল বাজারের মুস্তাফিজুর রহমান (৮৩), শাহাব উদ্দিন (৬৫), মো. বেলায়েত হোসেন (৬৩), ইমাম হোসেন খান (৫৬), ওমর ফারুক (৩৮) ও শাহরাজ উদ্দিন (৩১)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে গাংচিল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব খান ও তার শ্বশুর দোলোয়ারের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একদল দুর্বৃত্ত রাজ গার্মেন্টস নামে একটি দোকানে হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ছয়জনকে আহত করে।
সূত্র আরও জানায়, গাংচিল বাজারের রাজ গার্মেন্টসের মালিক শাহরাজ উদ্দিনের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাজীব খান।
টাকা না দেওয়ায় বিভিন্ন সময় সে শাহরাজকে হুমকি দেন। এর জের ধরে শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) রাতে অস্ত্রসহ রাজিব ও তার শ্বশুর দেলোয়ারের নেতৃত্বে তাদের সহযোগীরা শাহরাজের মালিকানাধীন রাজ গার্মেন্টস নামের কাপড়ের দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এতে একই পরিবারের ছয়জন আহত হন।
শাহরাজ উদ্দিনের ভাই রবিউল হোসেন বলেন, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে একের পর এক কোপ দিয়ে ছয়জনকে মারাত্মক জখম করে সন্ত্রাসীরা। দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে। একপর্যায়ে আমার বয়োবৃদ্ধ দাদা মুস্তাফিজুর রহমানকে আঘাত করলে তিনি মারত্মক জখম হন। দুর্বৃত্তরা দাদা মারা গেছে ভেবে ভয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের নোয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
রাজ গার্মেন্টসের মালিক শাহরাজ উদ্দিন বলেন, গাংচিল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব ব্যবসা পরিচালনার জন্য আমার কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। তার দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে বলে চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে দেবে না। গতকাল রাজিব সন্ত্রাসী নিয়ে দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পাশাপাশি কুপিয়ে আমার দাদা, চাচা, ভাইসহ ছয়জনকে জখম করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল হক বলেন, হামলার খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আহতরা পড়ে আছে। পরে পুলিশকে জানাই এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠাই। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এভাবে জখম করা মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাজীব খানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। জড়িত থাকার অভিযোগে দেলোয়ার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার ষিয়টি প্রক্রিয়াধীন। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।
জেবি