দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীতে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসানুল ইসলাম রিমনের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে ছাত্রলীগ।
শনিবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে শহরের শিক্ষাচত্তর এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়।
এ সময় জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্লাকার্ড নিয়ে ও কাফনের কাপড় পড়ে অবিলম্বে রিমনের মুক্তি জানায়। এ সময় প্রায় এক ঘন্টা শহরের ব্যস্ততম সড়ক ডিসি রোডে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
এ সময় বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাজালাল আহমেদ শাওন, নরসিংদী সদর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল আলম একমি, সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ, নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম ওয়াজিদ জয়, সাধারণ সম্পাদক আশিক আলম রিয়েল, নরসিংদী সরকারি কলেজের আহ্বায়ক রাকিব হাসান, সিনিয় যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম সিফাতসহ জেলা ও উপজেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে নরসিংদী সরকারি কলেজের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম সিফাত বলেন, নরসিংদীর ছাত্রসমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জেলার জনপ্রিয় ছাত্রনেতা রিমন ভাইকে মুক্তি না দিলে ছাত্রসমাজ যে কিভাবে ফুঁসে ওঠতে পারে তার প্রমাণ ছাত্রসমাজ দেবে। আগামীকাল রোববার আদালতে রিমনের জামিন চাওয়া হবে। যদি তাকে নি:শর্ত জামিন না দিয়ে মুক্তির পথকে বাধাগ্রস্ত করা হয় তাহলে ছাত্রসমাজ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ঢাকা -চট্রগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ অবরোধ করবে। তারা সভাপতির মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবেন বলে জানায়।
নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাজালাল আহমেদ শাওন বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সভায় রিমন নৌকার পক্ষে কথা বলেছেন। এরপর ও তাকে শোকজ করা হলে সে শোকজের জবাব দেয়। আর নির্বাচন আচরণবিধি আইন কার্যকর হবে ৩০ তারিখের পরে আর রিমন বক্তব্য দিয়েছে ২৭ তারিখে। একটি অপশক্তির ষড়যন্ত্রে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা আশা করি আদালতে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে রিমন মুক্তি পাবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার নরসিংদী ক্লাবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম (বীর প্রতিক) একটি মতবিনিময় সভা হয়। সভায় নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসানুল ইসলাম রিমন তার বক্তব্যে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পেটানোর হুমকি দেয়। মুহূ্র্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়।
পরে নিবার্চনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে নরসিংদী সদর আসনের দায়িত্বে নিয়োজিত সহকারী রিটার্নিং অফিসার ওমর ফারুক বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সে মামলায় গত শুক্রবার দুপুর ১টায় ঢাকার নিউমার্কেট থেকে আহসানুল ইসলাম রিমনকে নরসিংদী ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর শনিবার সন্ধ্যা ৫টায় পুলিশ তাকে নরসিংদীর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমাদুল হাসানের আদালতে পাঠানো হয়। এ সময় তারপক্ষের আইনজীবী কাজী নাজমুল ইসলাম জামিনের প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জেবি