দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উৎকোচের বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় রোববার বিকেলে ভুক্তভোগী চাকরি প্রার্থী, সচেতন সমাজ ও অভিভাবকদের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
বিদ্যলয়, লিখিত অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলন সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জের সমাজ উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী ও ১৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। বিদ্যালয়ের শূন্য পদে একজন করে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, অফিস সহায়ক, আয়া, নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী এই সাতটি পদে নিয়োগ নিতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ওই পদগুলোতে মোট ৮১ জন প্রার্থী হন। তাদের মধ্যে বাছাইয়ে কয়েকজন বাদ পড়েন।
পরে গত শুক্রবার নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৬৫ জনের মতো অংশ নেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের সভাপতি মাজু মিয়া চৌধুরী এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাঈন উদ্দিন খান মিলে টাকার বিনিময়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এতে করে চাকরিপ্রত্যাশী প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হয়েছেন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে নিয়োগ প্রদানসহ এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
গতকাল রোববার বিকেলে বিদ্যালয়সংলগ্ন সমাজ বাজারে একটি কার্যালয়ে ভুক্তভোগী ও সচেতন সমাজের ব্যানারে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম।
তিনি ছাড়াও এ সময় বক্তব্য দেন সহকারী প্রধান শিক্ষক চাকরি প্রার্থী ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জেসমিন আরা, শিক্ষার্থী অভিভাবক মাজহারুল ইসলাম, নিরাপত্তাকর্মী পদে চাকরি প্রার্থী রনি মিয়া, অফিস সহায়ক পদের প্রার্থী মো. তরিকুল ইসলাম, আয়া পদের প্রার্থী মরিয়ম খাতুন প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় প্রায় এক বছর আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান অবসরে যান। তারপর সহকারী শিক্ষক মাঈন উদ্দিন খান জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন। বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠতর শিক্ষক মাজেদা খাতুন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়-পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিলে প্রায় ৫২ লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে তাদের আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের ম্যানেজ করে এসব প্রার্থীদেরকে নামমাত্র পরীক্ষা নিয়ে উত্তীর্ণ করে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে করে অভিজ্ঞ ও মেধাবী প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের দাবি, জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াসহ স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে পুনরায় জনবল নিয়োগ করবেন।
জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাঈন উদ্দিন খান বলেন, ‘কোনো অনিয়ম হয়নি। ডিজির প্রতিনিধিসহ সবাই নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন। আর যিনি জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ছিলেন তিনি তখন দায়িত্ব নেননি। বিএড করছিলেন।’
পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাজু মিয়া চৌধুরী বলেন, এটা আমাদের নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে। যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। কারও কাছ থেকে কোনো উৎকোচ নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।’
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেবি