দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রী শ্রী কৃষ্ণের মহারাসলীলার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুর এলাকার মণিপুরি পাড়ায় জমে ওঠেছে উৎসবের আমেজ। মণ্ডপগুলোকে সাজানো হচ্ছে নতুন সাজে। মণিপুরি সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের হাজার হাজার লোকও মেতে উঠবে এই রাস উৎসবে।
আগামী ২৭ নভেম্বর উদযাপিত হবে মণিপুরি সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী কৃষ্ণের মহা রাসলীলা। এ উৎসকে কেন্দ্র করে মণিপুরিদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা।
উৎসবের স্থায়িত্বকাল এক রাত। রাসের দিন দুপুরে উৎসবস্থল শিববাজার উন্মুক্ত মঞ্চে হবে গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য। রাতে জোড়মণ্ডপে হবে রাসের মূল পর্ব মহারাসলীলা। থাকবে রাখাল নৃত্য ও রাসলীলা।
শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) কমলগঞ্জের ঘোড়ামারা এলাকায় প্রায় ২০ দিন ধরে রাস উৎসবের মহড়া চলছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মহড়ায় আসা মণিপুরি ছেলে-মেয়েদের রাসনৃত্যের বিভিন্ন কৌশল ও নিয়মকানুন শিখিয়ে দিচ্ছিলেন রাসনৃত্যের প্রশিক্ষকেরা।
২০ জন ছেলে-মেয়ে নাচ শিখছিলেন সেখানে। এছাড়া সাদা কাগজের নকশার নিপুণ কারুকাজে সাজানো হয়েছে মণ্ডপগুলো। করা হয়েছে আলোকসজ্জা। এ উৎসব উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থানসহ ভারত থেকেও মণিপুরি লোকজন ছুটে আসেন।
মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘের আয়োজনে উপজেলার জোড়ামণ্ডপ প্রাঙণে ১৮১তম এবং আদমপুর মণিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায় কমিটির আয়োজনে ৩৮তম রাস উৎসব পালিত হবে। উৎসব ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কমলগঞ্জে প্রায় এক মাস আগ থেকেই চলছে রাস উৎসবের প্রস্তুতি। রাস উৎসবকে সফল করতে প্রায় মাস খানেক ধরে কয়েকটি বাড়িতে রাসনৃত্য এবং রাখাল নৃত্যের মহড়া চলছে। মাধবপুরে তিনটি জোড় মণ্ডপের আওতায় গোষ্ঠলীলা ও রাসলীলার মহড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গোষ্ঠলীলায় কৃষ্ণের বাল্যকালে মাঠে মাঠে বাঁশি বাজিয়ে ধেনু চড়াবার মুহূর্তগুলো অনুকরণ করা হয়।
গোষ্ঠলীলাকে ‘রাখালনৃত্য’ বা ‘রাখোয়াল’ বলা হয়ে থাকে। রাসলীলায় অভিনীত হয় ‘গোপীনৃত্য’। গোপীদের নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের লীলাখেলাকেই এই পর্বে অভিনয় করে দেখানো হয়। মণিপুরির সুনিপুণ নৃত্যাভিনয়ে রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। রাতভর চাঁদের আলোয় মায়াবী জোৎস্নায় নূপুরের নিক্বণে মুদ্রা তুলবে সুবর্ণ কঙ্কন পরিহিতা রাধা ও গোপিনী রূপের মণিপুরী তরুণীরা। সুরের আবেশে মাতাল হয়ে উঠবে কমলগঞ্জের প্রকৃতি ও মানুষ।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, রাস উৎসবকে সফল করতে প্রায় মাসখানেক ধরে নৃত্যের মহড়া চলছে। মাধবপুরে তিনটি জোড়া মণ্ডপের আওতায় এই মহড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একেকটি মণ্ডপে আছেন একজন পুরোহিত। পুরোহিতের পরামর্শে একজন প্রশিক্ষক ধর্মীয় বিধি-বিধান মতো গোপী বা শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দেন। প্রশিক্ষকের সহযোগিতা আছেন একজন সহকারী প্রশিক্ষক। প্রশিক্ষক শিল্পীদের ঠিক করেন। এরপর সামাজিক বিধান মতো শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। গোপীবেশী এই শিল্পীদের বয়স ১৬ থেকে ২২ বছর। শুধুমাত্র রাধার বয়স পাঁচ থেকে ছয় বছর। নৃত্যের প্রতিটি দলে ন্যুনতম ১৬ জন অংশ নিয়ে থাকে।
মাধবপুর মণিপুরি মহারাসলীলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মল এস পলাশ বলেন, মাধবপুরে তিনটি মণ্ডপে পৃথক রাসলীলা হবে।
মাধবপুর ও আদমপুরে রাসলীলার আয়োজকরা জানিয়েছেন, মহা রাসলীলাল মূল উপস্থাপনা শুরু হবে সকাল ১১টা থেকে ‘গোষ্ঠলীলা বা রাখালনৃত্য’ দিয়ে। গোষ্ঠলীলায় রাখাল সাজে কৃষ্ণের বালক বেলাকে উপস্থাপন করা হবে।
জেবি