দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম এলাকায় এক নারী ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে রাজিব মিয়া (৩০) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ সরকার।
অভিযুক্ত ইউপি নারী সদস্য রেনুকা বেগম আটিগ্রাম ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য এবং কোষাভাঙ্গা এলাকার কহিনুর গাজীর স্ত্রী। নিহত রাজীব একই এলাকার তুলা মিয়ার ছেলে।
নিহত রাজীবের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ নভেম্বর বিকেলে বাজারে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন রাজিব মিয়া। পথে একটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। বাজার থেকে ফেরার পথে দেখেন সিলিন্ডারটি একই স্থানে পড়ে আছে। এরপর ওই পরিত্যক্ত সিলিন্ডারটি বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বাড়িতে প্রবেশের পাঁচ-ছয় মিনিট পর মেম্বার রেনুকা কয়েকজন যুবক নিয়ে এসে সিলিন্ডার চুরির অভিযোগে রাজিবকে মারধর করতে থাকেন। এ সময় রাজিবের ডাক-চিৎকারে বের হন তার মামা নজরুল ইসলাম। রাজিবকে না মারতে দুহাত জোড় করে যুবকদের কাছে মাফ চান নজরুল। কিন্তু ওই সময় নারী মেম্বার রেনুকা দুজনকেই মারতে নির্দেশ দেন যুবকদের। রেনুকার নির্দেশে বখাটেরা রাজিব ও নজরুলকে মারধর করে। একপর্যায়ে নজরুল জ্ঞান হারিয়ে ফেললে বখাটেরাসহ মেম্বার রেনুকা চলে যান। স্থানীয়রা আহত রাজিব ও নজরুলকে হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার কয়েকদিন পর বিচার বসিয়ে মোটা অংকের জরিমানা করেন স্থানীয় মাতব্বররা। এরই মধ্যে হাসপাতালে মারা যান রাজিব।
রাজিবের মামা নজরুল ইসলাম বলেন, কাবিখা/কাবিটা প্রকল্পের শ্রমিকের পারিশ্রমিকের টাকা থেকে ভাগ না দেওয়ায় ইউপি সদস্য রেনুকা বেগমের সঙ্গে মনোমালিন্য তৈরি হয় রাজিব ও তার মামা নজরুল ইসলামের। এর জের ধরে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার চুরির অভিযোগে গত ৮ নভেম্বর রাজিবকে তার বাড়িতে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজিব।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারী ইউপি সদস্য রেনুকা বেগম বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। আমি ওদের মারামারি ফিরিয়েছি। আর ঘটনা চেয়ারম্যান নিজে অবগত আছেন।
এ বিষয়ে আটিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর-এ আলম সরকার বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার চুরির ঘটনা নিয়ে মারামারি হয়েছে এমন খবর শুনে আমি দ্রুত সেখানে যাই। যাওয়ার পর দেখি দুই পক্ষই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছে। এরপর শুনলাম রাজিব চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় মামলাও হয়েছে বলে জেনেছি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ সরকার বলেন, এই ঘটনায় আটিগ্রাম ইউনিয়নের নারী সদস্য রেনুকা বেগমসহ কয়েক জনকে আসামি করে মামলা করেছেন নিহত রাজিবের মা নাজমা বেগম। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জেবি