দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত ও জব্দকৃত আলামত নষ্ট করার চেষ্টার ঘটনায় শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকার আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক।
বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোশারফ হোসেন ইকবাল মাহমুদকে সাময়িক বরখাস্তের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এর আগে তাকে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে বদলি করা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, ঢাকার আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিএম ফারুক হোসেন পাটওয়ারীর একটি চিঠি বুধবার শরীয়তপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠি বৃহস্পতিবার শরীয়তপুরের খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে এসে পৌঁছায়। এর আগে গত ১১ নভেম্বর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৩ বস্তা চাল ও ১১০০ খালি চালের বস্তা অবৈধভাবে মজুত রাখার দায়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদের বাসভবনটি সিলগালা করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এ ঘটনার পরদিন সন্ধ্যায় সেই সিলগালা বাসভবনের জানালার গ্রিল কেটে মালামাল সরানোর সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন ইকবাল মাহমুদ। এ ঘটনায় ইকবাল মাহমুদকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে বদলি করা হয়। এরপর ওই কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করল ঢাকা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।
এসব ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করতে ১৩ নভেম্বর ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। এতে সদস্য করা হয় ভেদরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নুরুল হক, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক মিজানুর রহমান ও জাজিরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেলিম আহমদকে। তদন্তকালীন সময়ে খাদ্য গুদামে ১৮ টন চালের ঘাটতি দেখা দিলে ১৪ নভেম্বর ১০ টন চাল ও ১৫ নভেম্বর ৮ টন চাল ট্রাকে করে বাহির থেকে চাল এনে ওই তিন তদন্তকারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই তাদের চালের হিসেব বুঝিয়ে দেন খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ওই তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
শরীয়তপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোশারফ হোসেন বলেন, ভেদরগঞ্জের খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছিল তা তদন্ত করা হয়েছে। সে সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত করেছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদন বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এফএইচ