দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনার মদন উপজেলার নয়াপাড়া ও পদেরকোণা রাস্তা কাম বেরিবাঁধটির একাংশ কেটে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছে একটি কুচক্রী প্রভাবশালী মহল।
ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছে প্রভাবশালীরা। উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কাজ হয়নি। অভিযোগ স্থানীয় ইউপি সদস্যের। তবে অভিযোগের কপি হাতে পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রতি বছর প্রভাবশালীদের একটি মহল সংঘবদ্ধ হয়ে মাছ শিকারের আশায় বাঁধটি কেটে দেয়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এতে তাদের উদ্দেশ্য সফল হলেও যাতায়াতের ভোগান্তিতে পড়ে বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার লোক এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। শুধু তাই নয় কৃষকদের বৈশাখী ফসল ঘরে কিংবা বাজারে নেওয়া হয় এই রাস্তা দিয়েই। প্রভাবশালীদের হাত থেকে বাঁধটি রক্ষা করতে এবং এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাগবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি অভিযোগ ইউপি সদস্যের।
জানা যায়, ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মোনায়েম এবং নাসিরের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ কুচক্রীমহল অবৈধভাবে মাছ শিকারের জন্য নয়াপাড়া ও পদেরকোণা রাস্তা কাম বেরিবাধটি কেটে দেন। এভাবে চলতে থাকে বেশ কিছুদিন এতে মানুষের দুর্ভোগও ছিলো সীমাহীন। তাদের মাছ শিকারের কাজ শেষ হলে বাধটি অরক্ষিত অবস্থায় রেখে চলে যায় পরবর্তীতে এলাকার সাধারণ মানুষ ভাঙা বাঁধটি পার হওয়ার জন্য যেনতেনভাবে মেরামত করেন। তবে বাঁধটি মানুষ ও যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী রয়েছে বলে জানান ভোক্তভোগীরা।
৫ নম্বর মাঘান ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. সোহেল মিয়া জানান, যেদিন থেকে মাছ ধরা শুরু হয়েছে তার আগের দিনও দেখলাম বাধটি সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এলকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দ্রুত ঘটনাটি লিখিত এবং মৌখিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবগত করেছি। আজ, কাল ও পরশু মাছ ধরা বন্ধ করে দিবে বলে সময় ক্ষেপণ করে শেষ পর্যন্ত তা আর বন্ধ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, মাছ শিকারের জন্য প্রতি বছর বাধটির বিভিন্ন অংশ কেটে দেওয়া হয়। এতে করে আমাদের যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এমনটি যেন আর না হয় সেদিকে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে রাখবেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের একজন রুহুল আমিন বাধ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা তো বিলের মাছ যাতে চলে না যায় সেজন্য জাল পেতে রেখেছি। বাঁধটি মূলত গত জৈষ্ঠ্য মাসেই ভেঙে গিয়েছিল। এই বিলটি মসজিদর আন্ডারে হওয়ায় আমরা তা সহযোগিতা করছি।
এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারওয়ার জাহান জানান, শুনেছি কিছু অসাধু মানুষ বেরিবাঁধ কেটে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছে। তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবহস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেবি