দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নোয়াখালীর উপকূল অতিক্রম করে চলে গেছে বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ থেকে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মিধিলি। তবে চলে গেলেও উপকূলে বাড়িঘর, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে গেছে।
জানা গেছে, জেলার সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বেশ কিছু এলাকায়। উপকূল জুড়ে সড়কের বিভিন্ন অংশে গাছ ভেঙে পড়েছে। এতে সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়েছিল। কৃষি খাতেও ক্ষত চিহ্ন রেখে গেছে মিধিলি।
জেলার সব উপজেলার মধ্যে দুর্যোগকবলিত ইউনিয়ন সংখ্যা ৩৪টি। আর দুর্গত মানুষের সংখ্যা ৬ হাজার ৭৬০ জন। জেলায় মোট ১ হাজার ১২৫টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। তার মধ্যে আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ৯১৩টি বাড়ি এবং সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে ২১২টি বাড়ি। তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) নোয়াখালীর উপকূল জুড়ে তাণ্ডব চালায় ঘূর্ণিঝড় মিধিলি। এতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে হাতিয়া উপজেলায়। এছাড়া জেলায় সহস্রাধিক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ক্ষতি হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতের। ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে জেলার দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া, সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও জেলা শহর। এখনও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের ভোগান্তিতে রয়েছে মানুষ।
সুবর্ণচর উপজেলার ইউএনও মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, মিধিলির ঝড়োগতির বাতাসে শতাধিক ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন টিনশেডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা সরিয়ে ফেলায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হাতিয়ার ইউএনও সুরাইয়া আক্তার বলেন, হাতিয়া উপজেলায় ঝড়ের কারণে ৩১০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯০টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২০টি। গাছপালা ভেঙে যেসব সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল সেগুলো স্বাভাবিক রাখতে আমাদের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করেছে।
কবিরহাট উপজেলার ইউএনও ফাতিমা সুলতানা বলেন, মিধিলির প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
নোয়াখালী পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার মো. জাকির হোসেন বলেন, আমাদের কর্মীদের দ্রুত কাজের ফলে আমরা বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পেরেছি। অবশিষ্ট এলাকায় সংযোগ স্থাপনে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। আশাকরি খুব দ্রুতই আমরা সবার কাছে বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দিতে পারব।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মিধিলি ইতোমধ্যেই উপকূল অতিক্রম করে গেছে। যেকোনো ঘূর্ণিঝড়ই ক্ষয়ক্ষতি করে যায়। মিধিলিও এর ব্যতিক্রম করেনি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হবে। নগদ টাকা ও চাল মজুদ আছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে।
সুবর্ণচর উপজেলার চর জুবলি ইউনিয়নের কৃষক মো. সিরাজ মিয়া জানান, আমন ধানের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছিল। বাতাসে ও বৃষ্টিতে ধান হেলে পড়েছে। ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। কৃষিবিভাগ যদি কৃষকের পাশে দাঁড়ায় তাহলে খুব উপকার হবে।
হাতিয়া উপজেলার তসলিম নামে একজন বাসিন্দা বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে হাতিয়ায় সারাদিন টানা বর্ষণ ও দমকা হাওয়া বয়ে যায়। উত্তাল সমুদ্রের বড় বড় ঢেউ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এছাড়া আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু গাছপালা উপড়ে গেছে। অনেক কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে।
সুবর্ণচর উপজেলার জাহঙ্গীর নামে একজন বলেন, অনেক গাছ উপড়ে পড়েছে। ফসল হেলে পড়েছে। ঘর-বাড়ি উড়িয়ে নিয়ে গেছে। আমাদের বিদ্যুৎ নেই। কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিতরণের জন্য আমাদের ২৪ লাখ টাকা এবং ৪৭৯ মেট্রিক টন চাল প্রস্তুত আছে। ঝড়ো বাতাসে কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি, আধাপাকা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কাজ করছি। এছাড়াও যেসব সড়কে গাছ উপড়ে পড়েছে আমাদের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেসব গাছ সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। বিদ্যুৎ কর্মীরা কাজ করছে সংযোগ স্বাভাবিক রাখার জন্য।
জেবি