দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্বাধীনতার ৫২ বছর পর বীরঙ্গনা স্বীকৃতি পেলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার সোহাগপুরের বিধবাপল্লীর আদিবাসী নারী ঝর্না দিও।
ঝর্না দিওকে নিয়ে সর্বশেষ ৬ জনসহ মোট ৩০ জন নারী মুক্তিযোদ্ধাকে স্বীকৃতি দেওয়া হলো।
গত ১৪ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত সর্বশেষ গেজেটে তার নাম প্রকাশিত হয়।
জানা গেছে, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৮৬তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সর্বশেষ গত ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সারাদেশের ভিন্ন ভিন্ন জনের নাম উল্লেখ করে নারী মুক্তিযোদ্ধা (বীরাঙ্গনা) স্বীকৃতির গেজেট প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ২৫ জুলাই নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামে নৃশংস গণহত্যা চালায় পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আলবদররা। সেদিন তাদের দুই ঘণ্টার তাণ্ডবে ১৮৭ জন পুরুষ গুলিতে নিহত হন। খুঁজে খুঁজে গ্রামের সকল পুরুষদেরকে হত্যা করা হয়। সেই থেকে গ্রামটি বিধবাপল্লী নামে পরিচিত লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের জঘন্যতম এবং নৃশংসতম ওই গণহত্যায় গ্রামের ৬২ জন মহিলা বিধবা হন এবং তাদের অনেককেই শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও ওই গ্রামের ৫৬ জন বিধবা বেঁচেছিলেন। বর্তমানে তাঁদের মধ্যে বেঁচে আছেন ২২ জন বিধবা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই ২৯ জন বিধবার প্রত্যেকের জন্য ১১ লাখ টাকা করে মোট ৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৯ টি পাকা বাড়ি করে দিয়েছেন।
২০১৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সোহাগপুরে ‘বীর কন্যা প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। শহীদদের স্মরণে গ্রামটিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজ’। বিধবাপল্লীর রাস্তাটিও পাকা করা হয়েছে। শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ ‘সৌরজায়া’ স্থাপন করা হয়েছে।
দীর্ঘ ৫২ বছর পর তাদের জন্য জেলার পুলিশ সদস্যরা তাদের বেতনের টাকায় বিধবাদের কিনে দিয়েছেন জমি।
জেবি