দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

‘হরতাল আর অবরোধ শুরু হয়েছে। কাজ-কামে টান ধরেছে। আসছি আর চলে যাচ্ছি। কাম হচ্ছে না।’ এমনি আক্ষেপ কামরুল ইসলাম ও চান মিয়াদের।
শনিবার (১৮ নভেম্বর) ভোরে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত শ্রমিক, দিনমজুরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বাসিন্দা। আবার কেউ কেউ দামুড়হুদা, আলমডাঙ্গা, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে এসেছেন কাজের সন্ধানে।
তাদের দাবি, এমনিতেই প্রতিদিন কাজ হয় না। তারপরে আবার হরতাল অবরোধ। এসব দিনে মানুষ খুব একটা কাজ করতে চায় না।
জেলার দামুড়হুদা উপজেলার পার কৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়নের সড়াবারিয়া গ্রামের মনিরুল, জামাত আলী। আলমডাঙ্গা উপজেলার চিতলা ইউনিয়নের হাঁপানিয়া গ্রামের নবীছদ্দী ও হুদা। একই ইউনিয়নের চিতলা গ্রামের আরমান, রাজিবদেরকে শহরের বিভিন্ন স্থানে বসে থাকতে দেখা যায়।
তারা প্রতিদিন ডালি, কোদাল, নিড়ানিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে আসে। এই মানুষগুলো শ্রম বিক্রি করে তাদের সংসার চালায়। নির্মাণকাজ, রাজমিস্ত্রির কাজ, সবজি ক্ষেতে কাজ করা, বস্তা টানা, মাটিকাটা থেকে শুরু করে নানা কাজ করেন তারা।
এমনিভাবে শহরের বিভিন্ন জায়গায় জীবিকা নির্বাহের জন্য তারা বসে থাকেন। শহরের মতো একই দৃশ্যপট গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে।
হরতাল-অবরোধের কারণে তাদের ঠিকঠাক কাজ হচ্ছে না। তাই বেশিরভাগ দিনই তাদের শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। ২০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক কাজ করতে আসেন। ভোর পাঁচটা থেকে শহর এবং গ্রামের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে শুরু করেন।
মালিকরা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা জনপ্রতি মজুরিভিত্তিতে শ্রমিকদের কাজে নেন। এখানে আসা শ্রমিকদের মধ্যে বেশির ভাগই প্রতিদিন কাজ পান। তবে অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের কাজে ভাটা পড়েছে। তারা বলেন, এখন অল্প কয়েকজনের কাজ হচ্ছে। বাকিরা বেকার থেকে যাচ্ছে।
শ্রমিক আরমান হোসেন বলেন, সংসার চালাতে আমার হিমসিম খেতে হচ্ছে। হরতাল-অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাজ নেই। এ অবস্থায় সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে ওঠেছে।
জেবি