দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নাটোরের মাধনগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ নয়ন চন্দ্র প্রামাণিকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিথীকা সরকার।
শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের একটি রেস্তরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিথীকা সরকার সাক্ষরিত লিখিত বক্ত্যব্য পাঠ করেন তিনি নিজেই।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয় সরকারি বিধি মোতাবেক কলেজে ৪ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০১১ সালের ১৩ নভেম্বরের পরিপত্রের কারণে ওই পদগুলির জন্য সরকার বেতন বন্ধ রাখে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকার পরিচালক (ভোকেশনাল) ড. মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে ওই পদগুলির এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্দেশ পাওয়ার পর নিয়োগকৃত ৪ জন শিক্ষকের মধ্যে তিনজন তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও প্রভাষক (বিশেষ) উদ্যোক্তা উন্নয়ন পদে নিয়োগপ্রাপ্ত মোজাম্মেল হক পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন না। ফলে অন্য তিনজন শিক্ষকের চাকরি এমপিওভুক্ত হলেও তারটা বাদ থাকে।
পরবর্তীতে তাকে বারবার বলার পরে গত ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মোজাম্মেল হক এমপিওভুক্তির জন্য তার কাগজপত্র জমা দেন। তার কাগজপত্র যাচাই করে এনটিআরসিএ তার নিবন্ধন পত্রটি ভুয়া মর্মে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেন।
বিষয়টি জানতে পেরে নিজেকে এ মামলা থেকে বাঁচানোর জন্য মোজ্জাম্মেল হক বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি জালিয়াতি ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। হয়রানিমূলক মিথ্যা এ মামলা ভিত্তিহীন দাবি করেন তিনি।
সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা ওই মামলার প্রতিবাদ জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। এ সময় কলেজ অধ্যক্ষ নয়ন চন্দ্র প্রামানিক ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোজাম্মেল হকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটিতে উদ্যেক্তা ও উন্নয়ন বিষয়ের প্রভাষক পদে তিনি নিয়োগ প্রাপ্ত হন। কিন্তু উদ্যেক্তা ও উন্নয়ন ট্রেডের অনুমোদন পায় ২০১৮ সালে। অধ্যক্ষ এমন ঘটনা আড়াল করে তাকে নিয়োগ দেন।
পরে তার এমপিওভুক্তির সকল ব্যবস্থা করবেন বলে বারেবারে আমার কাছ থেকে নগদ অর্থ নিতে থাকেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলে এমপিওভুক্তির জন্য চাপ দিলে তিনি আমার এনটিআরসিএ সনদটি জাল ও ভুয়া বলে তাকে অবহিত করেন।
তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করতেই এই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন অধ্যক্ষ নয়ন চন্দ্র ও তার স্ত্রী বিথীকা সরকার। তিনি তদন্ত করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
জেবি