দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অসময়ে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর, ধরলার ভাঙনে সব হারাচ্ছে মানুষ। আবারও ভাঙনের দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সাধারণত এ সময়ে নদীতে তেমন পানি থাকে না। তবে বাম তীর ঘেঁষে বয়ে যাওয়া সামান্য স্রোতে পাড়ের নিচের মাটি সরে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনে নারায়ণপুর ইউনিয়নের চৌদ্দঘুড়ী, কালারচর, বারোবিশ ও গঙ্গাধর নদীর ভাঙনে কচাকাটা, বল্লভেরখাস, নুনখাওয়া ইউনিয়নের চর কাপনা, ব্যাপারীরচর এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় এক মাস ধরে ভাঙন অব্যাহত। এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি ও স্থাপনা। প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে ঘড়বাড়ি, ভিটেমাটি, গাছপালা ও ফসলি জমি। ভাঙন আতঙ্কে বসতভিটা ছেড়ে অনেকে চলে যাচ্ছেন অন্যান্য স্থানে। ফলে হুমকিতে পড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকার প্রকৃতি ও পরিবেশ।
চর সিতাইঝার এলাকায় ধরলার তীর থেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন আব্দুস ছালাম। এরই মধ্যে তার বসতভিটার অর্ধেক চলে গেছে নদীতে। এ অবস্থায় চারদিন ধরে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন তিনি।
ভুক্তভোগী আজগার আলী, জহুরুল ইসলাম, জিয়াউল ইসলামের দাবি ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনে নারায়ণপুর ইউনিয়নের চৌদ্দঘুড়ী, কালারচর, বারোবিশ এলাকা ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অসংখ্য বাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে চলে যাবে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোয় নদীর তীর রক্ষায় স্থায়ী কাজ করা হবে।
ভাঙনকবলিত এলাকার শহিদুল ইসলাম জানান, অসময়ে নদীভাঙনে দিশেহারা সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের চর সিতাইঝার গ্রামের অসংখ্য পরিবার। অনেকে ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। নদীগর্ভে চলে গেছে ফসলি জমি। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আরও শতাধিক স্থাপনা। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর অনেকে অন্যের জমিতে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। আবারো ভাঙনের হুমকিতে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস ছালাম জানান, নদীতে তেমন পানি না থাকলেও সামান্য স্রোতেই ভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে। পাড় ভেঙে ঘরের কাছে চলে এসেছে। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ি সরিয়ে আপাতত অন্যের জায়গায় রেখেছেন তিনি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, জেলার তিস্তা, ধরলা এবং ব্রহ্মপুত্রসহ ১৬টি নদ-নদীর ২৭কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে অনেক অংশের ভাঙনকবলিত এলাকায় কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত মালামাল রয়েছে ভাঙন মোকাবেলায়।
ফুলবাড়ী, রাজারহাট ও সদর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ধরলা নদীর দৈর্ঘ্য ৫০কিলোমিটার। এরই মধ্যে ৫৯৫কোটি টাকা ব্যয়ে দুই পাড়ের প্রায় ২০ কিলোমিটার তীর রক্ষা ও ৩৩ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত কাজ চলমান। এসব প্রকল্পের কাজ প্রায় ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। তবে প্রকল্পটি সংশোধন করে ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো যুক্ত করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এটি পাস হলে কচাকাটা, বল্লভেরখাস, নুনখাওয়া, নারায়ণপুর, চর সিতাইঝারসহ ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোয় নদীর তীর রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা করা হবে।
জেবি