দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়ের গাছ কাটলেন পঞ্চগড়ের বোদায় নয়াদিঘী দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ।
শুক্রবার (৩ নভেম্বর) বিদ্যালয় চত্বরে থাকা দুটি আম ও কাঁঠাল গাছ কাটলেও কাউকে জানাননি তিনি।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের গাছ কর্তন করার পূর্বে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ও বনবিভাগ কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে গাছ কর্তন করার নিয়ম থাকলে তা মানা হয়নি।
খোজঁ নিয়ে জানা যায়, গতকাল শনিবার (৪ নভেম্বর) স্কুলের চারতলা ভবন উদ্বোধনের জন্য বিশাল একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। যে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, রেলপথমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম সুজন এমপি।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কয়েক লাখ টাকায় আনা হয় কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীরসহ আরও অনেককে। গাছ ব্যবসায়ী হযরত আলী জানান, বিদ্যালয়ের দুটি গাছ আমার কাছে বিক্রি করেন প্রধন শিক্ষক। আমি গাছ দুটি ক্রয় করি। বন বিভাগের অনুমোদনের কাগজের কথা বললে তিনি বলেন এগুলো কিছু লাগবে না আমি আছি। নাম না প্রকাশে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরকারদলীয় লোক। বর্তমান বোদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক যে কারণে তিনি বিদ্যালয়টি নিয়ে যা ইচ্ছে তা করে চলছেন।
প্রধানশিক্ষক হওয়ার পর থেকে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানারকম অনিয়ম করে আসছেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। ভয়ে কোনো শিক্ষক তার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছেন না। বিশেষ করে রেলমন্ত্রীর এপিএস চাচাতো ভাই হওয়ার কারণে সবাইকে দাবিয়ে রাখেন। এছাড়া ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তার আপন চাচি।
স্থানীয়রা জানান, তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চলছেন। পুরো গ্রাম ভয়ে কথা বলেন না। বিদ্যালয়টিকে নিজের বাসাবাড়ি করে রেখেছেন। শুধু গাছ কর্তন নয়। এরকম অনেক অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
বন বিভাগের দেবীগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জানান,আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমার কাছে অনুমোদনের বিষয় কোনো তথ্য নেই। তবে নিয়ম না মেনে কেউ গাছ কর্তন করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নয়াদীঘি দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, গাছ আমি কেটেছি। কোনো রকম অনুমোদন নাই। আপনারা যা পারেন তাই লেখেন আমি পরোয়া করি না।
জেবি