দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রংপুরে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা তিন দিনের অবরোধের শেষ দিনে বেড়েছে যান চলাচল। একইসঙ্গে সড়কে বের হওয়া মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও।
বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) সকালে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়, মেডিকেল মোড়, দর্শনা, মর্ডান মোড়, সাত মাথাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
দেখা যায়, গত দুই দিনের তুলনায় সড়কে গণপরিবহন, ব্যক্তিগত গাড়িসহ অন্যান্য যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়াও নগরের মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। গত দুই দিনের অবরোধে রংপুর থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার বাস।
রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবসর সময় কাটাচ্ছে গাড়ির চালক ও হেলপাররা। সেখান থেকে আজও ছেড়ে যাইনি আন্তঃজেলা বাসগুলো।
অনিক পরিবহনের চালক আবুল হোসেন জানান, গত তিন দিন ধরে জমানো টাকা খরচ করে চলছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসের হেল্পারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, যতো সমস্যা গরিব মানুষের। এক দিন কাজ বন্ধ থাকলে উপাস থাকতে হয়। এ রকম চললে গরিবের আর বেঁচে থাকা সম্ভব না। ঢাকা বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র।
তবে নগরীতে রয়েছে চিরাচরিত সেই যানজটের তীব্রতা। প্রভাব পড়েনি অবরোধের। নেই অবরোধকারীর আনাগোনা। চলছে ঢিলেঢালা অবস্থায়। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও রয়েছে মানুষের মনে আতঙ্ক।
এদিকে রংপুর শহরের বিভিন্ন দোকান-পাট শপিংমল ও বিভিন্ন সুপার মার্কেটে গেলে দেখা যায় ক্রেতাশুন্য বাজার। ব্যবসায়ী খোকন মিয়া বলেন, অবরোধের কারণে বাইরের জেলা উপজেলা থেকে মানুষ না আসতে পেরে ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। বসে বসে অবসর সময় কাটানো ছাড়া আর কিছুই না।
শহরের কাঁচাবাজারে গেলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। কাঁচামাল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বাদল বলেন,গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে বিশেষ করে আলু ও পেঁয়াজের মূল্য অনেক বাড়তি। চাহিদার তুলনায় আলু ও পেঁয়াজ কম থাকায় বেড়েছে এর দাম। গাড়ি বন্ধ থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে রংপুর সিটি কাঁচাবাজারে আসা এক সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, একদিকে অবরোধ অন্যদিকে জিনিসপত্রের লাগামহীন বৃদ্ধি। সাধারণ মানুষের এখন বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেলের প্রধান আবু মারুফ হোসেন জানান, মানুষের জানমাল নিরাপত্তায় পুলিশ প্রস্তুত। শহরের কোথায় কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে নাই। সবকিছুই স্বাভাবিক আছে বলেই তিনি জানান। পুলিশের সঙ্গে র্যাব, বিজিবি ছাড়াও আনছার ব্যাটালিয়নের সদস্যরাও মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছে।
মাঝে মধ্যে অবরোধের পক্ষে বিএনপি ও এর সমমাননা দলের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করলেও সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা রয়েছে মাঠে তৎপর। তবে অবরোধের শেষের দিন বৃহস্পতিবার সকালে বদরগঞ্জ ও এর আশেপাশের সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক ও রেলপথ অবরোধের ভিডিও ফুটেজও দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
জেবি